১৫ আগস্ট কেন্দ্র করে রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার ৫২ আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় গ্রেফতার দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম-ব্লকের ২৮ নম্বর সড়কের একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে ৫২ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে তারা ওই বাসায় একত্রিত হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়। ব্যানারগুলোর মধ্যে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল আয়োজনের কথা উল্লেখ ছিল। কয়েকটি ব্যানারে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছবিও ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার নথিতে আরো বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিরা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা, ষড়যন্ত্র এবং অপরাধ সংঘটনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনো চলছে। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। তারা জামিনে মুক্তি পেলে আত্মগোপনে যেতে পারেন-এমন আশঙ্কায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
পরে আদালত তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দুই কিশোরকে পাঠানো হয় টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। এদিন আসামিদের আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়নি এবং তাদের পক্ষে কোনো জামিন আবেদনও করা হয়নি।
কারাগারে পাঠানো ৫২ আসামির মধ্যে রয়েছেন-যুবলীগ নেতা মোতালিব, যুবলীগ নেত্রী মেহেজাবীন আক্তার মালা, রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, রমজান, মামুন, মিঠু ওরফে আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ, সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান, শাহিন হোসেন ইমন, লিমন খান, দেওয়ান ইসমাইল, ফাহিম মিয়া, রতন, রাব্বি ওরফে রাফি, রাতুল শীল, মিনারুল মিয়া, মাসুদ রানা ওরফে লিমু, জিহাদ হাসান, আবু সাইম ওরফে সায়েম বাবু, ফাহিম, শাকিল মিয়া, রাজীব, সানি, রাজন মিয়া, মো. তারেক, তারেক, শাহিন, ফয়সাল, মামুন মিয়া, মুন্না, তামজিদ মিয়া নয়ন, ইয়াছিন, জামিল, রাকিবুল হাসান রাতুল, ফয়সাল, সিয়াম, শরিফ, সাদিকুর রহমান পায়েল, শাহিন আলম, আব্দুল আলী বাবু, অনিক, তারিকুল ইসলাম, আ. রহমান, ইয়ামিন মিয়া, আতিক ও আশিক।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৪/৮/২০২৬