গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

গাজী নজরুলের সঙ্গে ‘হৃদ্যতাপূর্ণ আত্মীয়তার সম্পর্ক’ বজায় রেখে চলতে চান মরিয়মের বাবা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:২৪ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০২:১৪ এএম ২০২৬
গাজী নজরুলের সঙ্গে ‘হৃদ্যতাপূর্ণ আত্মীয়তার সম্পর্ক’ বজায় রেখে চলতে চান মরিয়মের বাবা
ছবি

ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় মেয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। মেয়ের মৃত্যুর পর সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো সেই মাসুম বিল্লাহই এখন গাজী নজরুলের সঙ্গে ‘হৃদ্যতাপূর্ণ আত্মীয়তার সম্পর্ক’ বজায় রাখতে আপস করেছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মতো মামলায় বাদীর আপসনামা দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই।

ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান আপসের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাদী ও আসামিরা পূর্ব থেকেই আত্মীয়। দুই পক্ষের একই আত্মীয়-স্বজনের পরামর্শে এবং ভবিষ্যতে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে বিরোধ মীমাংসা হয়েছে। ফলে আসামিদের জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

আদালতে উপস্থিত মাসুম বিল্লাহও বলেন, আসামিরা জামিন পেলে তার কোনো আপত্তি নেই। বিচারক তার কাছে জানতে চান, কোনো ‘চাপে’ আপস করেছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘না, কোনো চাপ নেই।’

মাকছুদা ইসলাম নারী ও বয়স্ক হওয়ায় পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তাকে মামলার পরবর্তী ধার্য দিন ২২ অক্টোবর পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়। তবে মামলার তদন্ত চলমান এবং নজরুল ইসলামের হাজতবাসের মেয়াদ কম হওয়ায় তার জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত।

আদালতে দেওয়া আপসনামায় তিনটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রথম পক্ষ হিসেবে আছেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ এবং দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে গাজী নজরুল ইসলামের আত্মীয় আব্দুর হামিদ মোড়ল। শর্ত অনুযায়ী, নজরুল ও মাকছুদা জামিন পেলে মাসুম বিল্লাহ বা তার পরিবারের কারো কোনো আপত্তি থাকবে না। দুই পক্ষ হৃদ্যতাপূর্ণ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে। আর বিচারাধীন বিষয়ে উভয় পক্ষ নির্লিপ্ত থেকে বিচারকাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

আপসনামায় বলা হয়, মরিয়মের সঙ্গে নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম ‘হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে’ একসঙ্গে সংসার করে আসছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো একসময় ঢাকার সংসদ সদস্য ভবনের একটি ফ্ল্যাটে মরিয়ম আত্মহত্যা করেন। নজরুলের ফোন পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেখানে গিয়ে মেয়ের আত্মহত্যার কথা জানতে পারেন মাসুম বিল্লাহ।

আপসনামায় বলা হয়েছে, নজরুলের বাসায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটায় তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহের বশে নজরুল, মাকছুদা ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন মাসুম বিল্লাহ। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, নজরুল ও মাকছুদার প্ররোচনায় কিংবা তাদের কোনো কর্মকাণ্ডে রাগ বা অভিমানে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি। আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার স্বার্থে উভয় পক্ষ আলোচনা করে আপস করেছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেছিলেন। পরে নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী।

এর ঠিক দুই মাস পর ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন মরিয়মের বাবা।

এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন।

এজাহারে আরো বলা হয়, লাশ উদ্ধারের সময় মরিয়মের বিছানার ওপর তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান মাসুম বিল্লাহ। সেখানে সম্পর্ক, বিশ্বাসভঙ্গ ও মানসিক কষ্টের কথা তুলে ধরে একাধিক লেখা ছিল।

নজরুলের স্ত্রী মাকছুদা ছিলেন মরিয়মের দাদি। মরিয়মের আপন দাদি মাছুমা ও মাকছুদা দুই বোন। আবার গাজী নজরুল ছিলেন মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর আপন খালু।

মেয়ের মৃত্যুর পর মামলা করার সময় মাসুম বিল্লাহ বলেছিলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। অনেক পরে জানতে পারছি। কিন্তু ওর মামার জন্য এভাবে সব শেষ হয়ে গেল।’ ২২ সেপ্টেম্বর সকালে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের মর্গে মেয়ের লাশের অপেক্ষায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি তো চাই সঠিক তদন্ত, আমি যেন ন্যায় বিচারটা পাই; প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়।’

এখন কীভাবে তার অবস্থান বদলাল, তা জানতে ফোন করা হলে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আমাদের মধ্যে আপস হয়েছে। উনি (নজরুল ইসলাম) আমার আত্মীয়।’ কোনো চাপে আপস করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো চাপ নেই।’ পরে কথা বলবেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মতো মামলায় বাদীর আদালতে এসে আপসনামা দেওয়ার সুযোগ নেই। মামলা হওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দেবেন।

তিনি বলেন, আসামিদের জামিন দেওয়া হবে কি না, সেটি আদালতের এখতিয়ার। তবে বাদীর এ ধরনের দরখাস্তের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তার ভাষ্য, আপসনামাটি কীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং কোনো চাপ ছিল কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান বলেন, মামলার পর্যালোচনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার সঙ্গে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। রিমান্ড শেষে দাখিল করা প্রতিবেদনেও তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বাদীপক্ষ প্রথমে ‘না বুঝতে পেরে’ মামলা করেছিল দাবি করে মাহাবুবুর রহমান বলেন, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্তে কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ার পর সব খোঁজখবর ও বিশ্লেষণ করে আপসনামা দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলা আপসযোগ্য নয়, তবে আদালত চাইলে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারেন।
সানা/আপ্র/০১/১০/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

মিরপুরে জুলাই হত্যাকাণ্ডে ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিরপুরে জুলাই হত্যাকাণ্ডে ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আ...

নির্বাচনে প্রার্থীর ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক নয়: হাই কোর্ট
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নির্বাচনে প্রার্থীর ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক নয়: হাই কোর্ট

জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, তা জানতে...

সেনা-র‌্যাব পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ‘তালা ইব্রাহিম’ গ্রেফতার
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেনা-র‌্যাব পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ‘তালা ইব্রাহিম’ গ্রেফতার

সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের সদস্য পরিচয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীর বাসায় ঢুকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দ...

বেস্টওয়ে গ্রুপের এমডি মিজানুর ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেস্টওয়ে গ্রুপের এমডি মিজানুর ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রায় ২০০ কোটি টাকা মানিলোন্ডারিং ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেস্টওয়ে গ্রুপের ব্যবস্থা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপিকে চাঁদাবাজ বললে বিচার করবে জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকলে, তার বিচার জনগণ করবে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- জনগণ বিচার করবে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 4 ঘন্টা আগে