একেএম ফজলুল হক: বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) ৫০১টি শিল্প প্লটে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। গত শনিবার থেকে ইপিজেডে ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।
এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে ইপিজেডের নিজস্ব ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছিল না। ফলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সরবরাহ করা ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে ইপিজেডের চাহিদার অর্ধেকও পূরণ হচ্ছিল না। এতে ৫০১টি শিল্প প্লটের কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়।
চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে শনিবার থেকে সব শিল্প প্লটে চাহিদা অনুযায়ী ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। পুরো বিদ্যুৎই পিডিবি সরবরাহ করছে। এতে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।
ইপিজেড কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কারখানাগুলো পুরোদমে চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এর মধ্যে ১৫ থেকে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করে বেসরকারি ইউনাইটেড গ্রুপের ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে কেন্দ্রটি পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছিল না।
এ অবস্থায় ইপিজেড কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিডিবি ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। চাহিদার বাকি ৩৫ মেগাওয়াট না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিনিয়োগকারীরা সাপ্তাহিক ছুটির দিন পরিবর্তন, কর্মঘণ্টা কমানো, ওভারটাইম বন্ধ এবং ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহারের মতো বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। এখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫০১টি শিল্প প্লট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া ও ভারতের বিনিয়োগকারীরা যুক্ত রয়েছেন।
ইপিজেড থেকে বছরে প্রায় ২৩৭ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসাবে এর আর্থিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।
পিডিবি দক্ষিণ জোনের প্রধান কামাল উদ্দিন বলেন, চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা না থাকলেও দেশের স্বার্থে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাতে সফল হওয়া গেছে। দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এ খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
হেমপেল রি ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। উৎপাদন স্বাভাবিক করতে কারখানাগুলো পুরোদমে কাজে নেমেছে। এ স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সানা/আপ্র/১৬/৮/২০২৬