মাহাবুব রহমান বিপ্লব, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জে লটারির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ধান সংগ্রহ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি)-এর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ‘জুলাই যোদ্ধা’রা।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে পৌর শহরের শাহাপুর আঞ্জুমান ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেন জুলাই যোদ্ধা রেজওয়ান সরকার।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহের জন্য লটারির মাধ্যমে সরকারিভাবে উপকারভোগী কৃষকদের তালিকা করা হলেও তালিকাভুক্ত প্রকৃত কৃষকদের গুদামে ধান সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে ২০ থেকে ৩০ জন সাধারণ কৃষকের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তাদের নামে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ দেখানো হয়েছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, খাদ্য গুদামের চুক্তিবদ্ধ তিন থেকে চারজন চালকল ও চাতাল মালিকের যোগসাজশে চাল তৈরির জন্য গুদাম থেকে প্রকৃতপক্ষে ৮০ টন ধান উত্তোলন করা হয়নি। অথচ কাগজপত্রে ওই পরিমাণ ধান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ দেখিয়ে জাল বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়। পরে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সিংহ এবং ওসি এলএসডি রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গণঅভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে সংবাদ সম্মেলনে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সিংহ ও ওসি এলএসডি রায়হান কবির। তাদের দাবি, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে জুলাই যোদ্ধা ও স্থানীয় এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ বা টালবাহানা করা হলে পরবর্তীতে কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সানা/আপ্র/১৬/৮/২০২৬