চীনের সঙ্গে মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতা আরো জোরদার করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন মহাকাশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ‘স্পেস একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত একাডেমিটি হবে নাসার নেতৃত্বাধীন একটি কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান। এর লক্ষ্য হবে মহাকাশ খাতে পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, নভোচারী, প্রযুক্তিবিদ, পরিচালনাকর্মী, উদ্যোক্তা, বেসামরিক কর্মকর্তা ও সামরিক সদস্য তৈরির জন্য কারিগরি শিক্ষা, নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও জনসেবার সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
মার্কিন সামরিক একাডেমি ওয়েস্ট পয়েন্টের আদলে নতুন প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, মহাকাশ বাহিনী ও বেসরকারি মহাকাশশিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং চাঁদের পাশাপাশি আরো দূরবর্তী মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী অভিযান বাড়ছে। এ কারণে দক্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মী, প্রকৌশলী এবং মহাকাশ খাতের অন্যান্য পেশাজীবীদের একটি নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
তবে একাডেমিটির অবস্থান, পরিচালন কাঠামো কিংবা স্নাতকদের দায়িত্ব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাহী আদেশে নাসার প্রশাসককে চেয়ারম্যান করে একটি প্রেসিডেনশিয়াল কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনকে ১২০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে একাডেমির প্রশাসনিক কাঠামো, শিক্ষাক্রম, নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ, স্নাতকদের সামরিক ও বেসামরিক সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনের সম্ভাব্য বাধ্যবাধকতা, শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা, স্থায়ী অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের সুপারিশ দিতে হবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত একাডেমির মাধ্যমে মহাকাশ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে।
নতুন এই উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন চাঁদে আবার নভোচারী পাঠানো এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে মহাকাশ প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচিতে চাঁদকেন্দ্রিক পরবর্তী অভিযান এবং দীর্ঘমেয়াদি মঙ্গল অভিযানের পরিকল্পনাও রয়েছে।
জনসন স্পেস সেন্টারে আয়োজিত একই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ‘আর্টেমিস-২’ অভিযানের চার নভোচারীকে কংগ্রেশনাল স্পেস মেডেল অব অনার প্রদান করেন। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন অংশ নেন। গত এপ্রিলে তাঁরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ‘আর্টেমিস-২’ ছিল অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর মানুষের চাঁদের এত কাছাকাছি যাওয়ার প্রথম অভিযান। এই অভিযানের সাফল্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী চন্দ্রাভিযান এবং ভবিষ্যৎ মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিকে আরো এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফলে ট্রাম্পের ঘোষিত স্পেস একাডেমি কেবল একটি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরির উদ্যোগ নয়; চাঁদ, মঙ্গল ও বৃহত্তর মহাকাশ কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে। সূত্র: উইয়ন নিউজ; নাসা; হোয়াইট হাউস
সানা/ডিসি/আপ্র/২৯/৮/২০২৬