খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা ভরদ্বাজ মণি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বাবুপাড়া এলাকায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।
দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, বাবুপাড়া এলাকায় ভরদ্বাজ মণি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুরের খবর তারা পেয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি কে বা কারা এবং ঠিক কখন ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুরের ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে বলে জানিয়েছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এন্টন চাকমার সই করা বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ভরদ্বাজ মণি চাকমার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলার ঘটনা শুধু একটি স্থাপনা ধ্বংসের বিষয় নয়; এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনের ইতিহাসের ওপর আঘাত। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত এবং তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা জুপিটার চাকমা। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে ভরদ্বাজ মণি চাকমাকে স্মরণ করা হয়। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মৃতিবেদি ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
জুপিটার চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় ও অধিকার রক্ষার সংগ্রামের ইতিহাসে ভরদ্বাজ মণি চাকমার আত্মত্যাগ জুম্ম জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মৃতিবেদি ভেঙে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও ক্ষোভের বিষয়।
একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, স্মৃতিবেদি ভাঙার ঘটনা পাহাড়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস ও জুম্ম জনগণের আবেগের ওপর আঘাতের শামিল। তার মতে, ঐতিহাসিক স্মারক ধ্বংস করে কোনো জাতি বা অঞ্চলের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও তার চেতনাকে স্তব্ধ করা সম্ভব নয়।
স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য জানায়নি।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৯/৮/২০২৬