মহাকাশে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভেসে থাকা স্পেসএক্সের একটি রকেটের অংশ আগামী আগস্টে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে। প্রায় চার হাজার কেজি ওজনের এই মহাকাশ ধ্বংসাবশেষের বিরল আঘাতের দৃশ্য সরাসরি পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৫ আগস্ট ভোর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের ওপরের অংশটি চাঁদের ‘আইনস্টাইন ক্রেটার’ নামের গর্তের কাছে আছড়ে পড়তে পারে।
মহাকাশে বস্তুটির গতিপথ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য প্রথম নিশ্চিত করেন ‘প্রজেক্ট প্লুটো’ নামের জনপ্রিয় ডেস্কটপ প্ল্যানেটেরিয়াম সফটওয়্যারের নির্মাতা বিল গ্রে। তিনি রকেটটির কক্ষপথ ও গতিপথের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে আগেই এর চাঁদে আঘাতের সম্ভাবনা জানিয়েছিলেন।
জানা গেছে, চাঁদে আছড়ে পড়তে যাওয়া রকেটের অংশটি স্পেসএক্সের ‘ফায়ারফ্লাই ব্লু ঘোস্ট’ মিশনের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি উৎক্ষেপণ করা ওই মিশনে ফ্যালকন ৯ রকেটটি ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের ব্লু ঘোস্ট চন্দ্রযান এবং জাপানের আইস্পেস প্রতিষ্ঠানের হাকুতো-আর চন্দ্রযানকে মহাকাশে পৌঁছে দিয়েছিল।
নির্দিষ্ট কক্ষপথে চন্দ্রযানগুলো স্থাপনের পর রকেটটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। ফলে এটি পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মহাকাশে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঘুরতে থাকে রকেটের ওই অংশ।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৯ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ১৩ ফুট। এর ওজন প্রায় চার হাজার কেজি। চাঁদের দিকে এটি ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে ধাবিত হচ্ছে।
তবে এই আঘাতে চাঁদের বড় কোনো ক্ষতি বা বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। বিল গ্রে ও তাঁর সহকর্মীদের গবেষণা অনুযায়ী, কম্পিউটার সিমুলেশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আঘাতের প্রভাব সীমিত থাকবে।
গবেষকেরা বলছেন, চাঁদে আছড়ে পড়া অনেক প্রাকৃতিক গ্রহাণুর তুলনায় রকেটটির আকার বড় হলেও এর ভেতরের অংশ অনেকটাই ফাঁপা এবং গতিও তুলনামূলকভাবে কম। ফলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
তবে মহাকাশ গবেষণার জন্য ঘটনাটিকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এটি হবে মানুষের তৈরি কোনো বস্তুর চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাতের ঘটনা সরাসরি পর্যবেক্ষণের বিরল সুযোগ। এর মাধ্যমে চাঁদে আঘাতের পর ধূলা ও গ্যাসের বিস্তার, মহাকাশ বর্জ্যের প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, যেসব এলাকায় ওই সময় চাঁদ আকাশে দৃশ্যমান থাকবে এবং রাতের অন্ধকার থাকবে, সেখান থেকে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণের সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকা ও উত্তর আফ্রিকার কিছু অঞ্চল থেকে এটি দেখার সুযোগ থাকতে পারে।
এ ছাড়া উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের কিছু দূরবর্তী অঞ্চল থেকেও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: ফিজ ডটঅর্গ
সানা/আপ্র/২৪/৭/২০২৬