মহাবিশ্বের অন্যতম বড় রহস্য ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি উন্মোচনের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা উৎক্ষেপণ করেছে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। সৌরজগতের বাইরের অসংখ্য গ্রহ খুঁজে বের করার পাশাপাশি মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করবে এটি।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণ করা হয়। অন্তত পাঁচ বছরের মিশনে এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ লাখ মাইল দূরের ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২-এ অবস্থান করে গভীর মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করবে। নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও প্রথম নারী নির্বাহী ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে।
প্রায় ৪২ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট প্রশস্ত টেলিস্কোপটিতে দুটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র রয়েছে। এর ওয়াইড ফিল্ড ইনস্ট্রুমেন্টে ৩০০ মেগাপিক্সেলের নিকট-অবলোহিত ক্যামেরা রয়েছে, যা হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বড় এলাকার ছবি তুলতে সক্ষম। ফলে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ মহাকাশের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। অন্য যন্ত্র করোনোগ্রাফ ইনস্ট্রুমেন্ট কাছাকাছি গ্রহের উচ্চ-কনট্রাস্ট ছবি ও বর্ণালী পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হবে।
হাবলের সমমানের প্রাথমিক দর্পণ ব্যবহার করা হলেও রোমান টেলিস্কোপটির ওজন হাবলের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ কম। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এর তথ্য মহাবিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশজুড়ে থাকা ডার্ক এনার্জি এবং প্রায় ২৭ শতাংশ গঠনকারী অদৃশ্য ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে।
রোমানের উপপ্রধান জ্যেষ্ঠ প্রকল্প বিজ্ঞানী জেফ ক্রুকের মতে, টেলিস্কোপটির সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হয়তো এমন কিছু হবে, যা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো চিন্তাই করেননি। তাঁর আশা, রোমান মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের জ্ঞানকে নতুন ধাপে নিয়ে যাবে।
সানা/আপ্র/৩১/৮/২০২৬