তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাবের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের করা মামলার অবসান ঘটাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। আইনি রফার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ২১০ কোটি ডলার দিতে হবে। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা মামলার ভিত্তিতে এ অর্থদণ্ড আরো ৫০০ কোটি ডলার বেড়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
আপস রফায় নিজেদের কোনো ধরনের অন্যায় স্বীকার করেনি মেটা। তবে টিনএজারদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব সীমিত করতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে একগুচ্ছ নতুন বিধিনিষেধ, সুরক্ষা ব্যবস্থা ও পরিচালনগত পরিবর্তন আনছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটার প্ল্যাটফর্মে আসা এসব পরিবর্তন অদূর ভবিষ্যতে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবের মতো অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
যেসব পরিবর্তন আসছে
দৈনিক ব্যবহারের সীমা: অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে পারবে। অনবরত স্ক্রলিং বন্ধ করতে প্রতি ১৫ মিনিট পরপর বিরতির বার্তা বা নোটিফিকেশন দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে এ বিধিনিষেধ পাঁচ বছর কার্যকর থাকবে। টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউব একই শর্ত মেনে নিলে ব্যবহারের সীমা দিনে এক ঘণ্টা করা হবে এবং তা ১০ বছর কার্যকর থাকবে।
রাতের ব্যবহার ও নোটিফিকেশন বন্ধ: রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত টিনএজাররা নিউজফিড দেখতে পারবে না। রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কোনো নোটিফিকেশনও আসবে না।
স্কুল চলাকালে নোটিফিকেশন নিষেধ: শিক্ষাবর্ষ চলাকালে ক্লাসের দিনগুলোতে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে কোনো পুশ নোটিফিকেশন পাঠানো যাবে না।
কঠোর বয়স যাচাই: অল্পবয়সী ব্যবহারকারীরা যাতে প্রাপ্তবয়স্ক পরিচয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে না পারে, সে জন্য আরো কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ক্ষতিকর কনটেন্টে কড়াকড়ি: সাইবার হয়রানি, খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগ, নিজের জীবনাবসান ও আত্মঘাতী প্রচারণামূলক কনটেন্ট থেকে শিশুদের দূরে রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ: সন্তানদের অনলাইন কর্মকাণ্ড সহজে তদারকি ও সীমিত করার জন্য অভিভাবকদের আরো সহজ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দেওয়া হবে।
সামাজিক তুলনা ও ফিল্টারে সীমাবদ্ধতা: হীনমন্যতা ও মানসিক বিষণ্নতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে-এমন সৌন্দর্যবর্ধক ফিল্টার ও লাইকের সংখ্যা দেখানোর কিছু সুবিধা টিনএজারদের জন্য বন্ধ বা সীমিত করা হবে।
মেটা এসব নিয়ম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য স্বাধীন বা নিরপেক্ষ নিরীক্ষক নিয়োগ করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে মামলাকারী ২৯ অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ।
সানা/আপ্র/৩১/৮/২০২৬