গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

মেনু

লাস ভেগাসের রেস্তোরাঁয় রোবটও নিচ্ছে বকশিশ, টাকা যাচ্ছে কার পকেটে!

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:১৬ পিএম, ২০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৫৫ এএম ২০২৬
লাস ভেগাসের রেস্তোরাঁয় রোবটও নিচ্ছে বকশিশ, টাকা যাচ্ছে কার পকেটে!
ছবি

ছবি সংগৃহীত

রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন করছে রোবট, কফি বানাচ্ছে রোবট, এমনকি ককটেলও তৈরি করছে যন্ত্র। এবার মানুষের মতো রোবটও যেন গ্রাহকদের কাছে হাত বাড়িয়ে বলছে—বকশিশ দিন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রোবটকে দেওয়া সেই টাকা শেষ পর্যন্ত যাচ্ছে কার পকেটে?

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের ভেনেশিয়ান হোটেলের ‘দ্য টিপসি রোবট’ বারে দুই রোবটিক হাত দিয়ে তৈরি করা হয় ককটেল। একটি মার্গারিটার দাম ১৭ ডলার। এর সঙ্গে যোগ হয় ১০ শতাংশ সেবা ফি। পাশাপাশি গ্রাহকদের বকশিশ দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

নিউইয়র্কের ‘আর্টলি কফি’তেও বকশিশ চাইছে রোবট বারিস্তা। নিউ জার্সির নিউয়ার্ক বিমানবন্দরের একটি কর্মীহীন স্বয়ংক্রিয় দোকানে পানির বোতল কিনলেও বকশিশ দেওয়ার পরামর্শ দেখা যাচ্ছে। আবার অরেগনের পোর্টল্যান্ডের ‘টপ বার্মিজ’ রেস্তোরাঁয় অর্ডার নেন মানুষ, কিন্তু খাবার টেবিলে পৌঁছে দেয় রোবট।

মানুষ খাবার পরিবেশন করলে ভালো সেবার জন্য বকশিশ দিতে আপত্তি করেন না অনেকেই। কিন্তু রোবটের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। কারণ, রোবটকে দেওয়া সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে, তা অনেক সময় গ্রাহকের কাছে পরিষ্কার নয়।

রোবটের বকশিশ যাচ্ছে কার কাছে?

বকশিশ সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবটকে বকশিশ দেওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের লেহাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক হলোনা ওচসের মতে, কিছু প্রতিষ্ঠান রোবটের নামে পাওয়া বকশিশ নিজেদের আয় হিসেবে রেখে দেওয়ার সুযোগ নিতে পারে। মূল প্রশ্ন হলো—এই অর্থ থেকে কে লাভবান হচ্ছে এবং এর মূল্যই বা কে দিচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের দেওয়া বকশিশ থেকে প্রতিষ্ঠান, মালিক বা ব্যবস্থাপকদের অংশ নেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু বকশিশ যদি কোনো যন্ত্রের নামে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে আইনের ফাঁক থেকে যেতে পারে। রোবটের নামে দেওয়া অর্থের প্রকৃত মালিক কে—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হয়নি।

অবশ্য সব প্রতিষ্ঠান রোবটের বকশিশ নিজেদের কাছে রাখছে না। ‘দ্য টিপসি রোবট’ ও ‘আর্টলি কফি’ জানিয়েছে, তারা পাওয়া বকশিশ মানবকর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেয়। কোম্পানি এর কোনো অংশ নেয় না। এমনকি গ্রাহকদের আপত্তির পর ‘আর্টলি কফি’ অনেক জায়গায় রোবটের জন্য বকশিশ দেওয়ার ডিজিটাল ব্যবস্থাও বন্ধ করেছে।

রোবট কি মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে?

রোবট ব্যবহারের পক্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তি, সেবা খাতে কর্মীর সংকট রয়েছে। তাই রোবট মানুষের কাজ কেড়ে নেওয়ার বদলে কর্মীদের সহযোগিতা করতে পারে।

‘আর্টলি কফি’র কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রোবট ব্যবহারের উদ্দেশ্য খরচ কমিয়ে মানুষের চাকরি কমানো নয়। প্রযুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের কাজ সহজ করা এবং গ্রাহকদের নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, রোবট ব্যবহারের আড়ালে কম বেতন দেওয়ার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তাদের প্রশ্ন, রোবট যদি কাজই করে, তাহলে গ্রাহকের কাছ থেকে আবার বকশিশ নেওয়ার যৌক্তিকতা কী?

রোবটকে বকশিশ দেবেন?

বকশিশ দেওয়ার অন্যতম কারণ হলো ভালো সেবার জন্য কর্মীকে পুরস্কৃত করা। পাশাপাশি সেবা খাতের অনেক কর্মী তুলনামূলক কম বেতন পাওয়ায় বকশিশ তাদের বাড়তি সহায়তা দেয়। কিন্তু রোবটের ক্ষেত্রে এসব যুক্তি কতটা প্রযোজ্য?

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল লিনের মতে, রোবটকে বকশিশ দেওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। কারণ রোবট ভালো সেবা দিলেও তার বাড়তি আয়ের প্রয়োজন নেই, আবার কম বেতনের সমস্যাও নেই।

তারপরও বাস্তবে অনেক মানুষ রোবটকে বকশিশ দিতে রাজি হচ্ছেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ রোবট বারটেন্ডারকে বকশিশ দিতে আগ্রহী। তবে যারা আগে রোবট বারটেন্ডারের সেবা নিয়েছেন, তাদের মধ্যে বকশিশ দেওয়ার আগ্রহ তুলনামূলক বেশি।

আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বকশিশের টাকা মানবকর্মীদের দেওয়া হবে—এ কথা জানলে গ্রাহকদের মনোভাব অনেকটাই বদলে যায়। গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, বকশিশ মানবকর্মীদের কাছে যাবে জানলে তারা রোবটের সেবার জন্যও বকশিশ দিতে রাজি।

ফলে রোবটকে বকশিশ দেওয়া ভবিষ্যতের স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে উঠবে, নাকি প্রযুক্তির আরেকটি সাময়িক প্রবণতা হিসেবেই থাকবে—তা অনেকটাই নির্ভর করছে গ্রাহকদের ওপর। মানুষ যদি এই ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও একসময় রোবটের নামে বকশিশ চাওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।

রোবটের হাত সামনে বাড়ানো থাকলেও তাই আসল প্রশ্নটা অন্য জায়গায়—বকশিশের টাকা শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

সূত্র: বিবিসি

এসি/আপ্র/২০/০৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ফেসবুকে ‘অরিজিনাল কনটেন্ট’ বলতে যা বোঝায়
২০ আগস্ট ২০২৬

ফেসবুকে ‘অরিজিনাল কনটেন্ট’ বলতে যা বোঝায়

ফেসবুকে কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। প্ল্যাটফর্মটি এখন অরিজিনাল বা মৌলিক কন...

মোবাইল কলের খরচ কমানোর উদ্যোগ বিটিআরসির
১৯ আগস্ট ২০২৬

মোবাইল কলের খরচ কমানোর উদ্যোগ বিটিআরসির

মোবাইলে কথা বলার খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গ্রাহকদের...

চীনে পিক্সেল ডিভাইসের উৎপাদন গুটিয়ে নিচ্ছে গুগল
১৮ আগস্ট ২০২৬

চীনে পিক্সেল ডিভাইসের উৎপাদন গুটিয়ে নিচ্ছে গুগল

আগামী বছর থেকে চীনে পিক্সেল ডিভাইসের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জা...

চলন্ত বাসে পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
১৮ আগস্ট ২০২৬

চলন্ত বাসে পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের জন্য চালু হওয়া বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিসে স্যাটেলাইটভিত্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ শতাংশ, সরকারের প্রতি ৫৪ শতাংশ

সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে পরিচালিত এক জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৫৪ দশমিক ৫০ শতাংশ মানুষ। সরকারের কর্মকাণ্ডকে খারাপ বলেছেন ৩২ দশমিক ৯০ শতাংশ। ডপলার অপিনিয়ন রিসার্চের ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই জরিপে সরকারের সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 11 ঘন্টা আগে