গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

মেনু

মোবাইল কলের খরচ কমানোর উদ্যোগ বিটিআরসির

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৩৭ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৫৪ এএম ২০২৬
মোবাইল কলের খরচ কমানোর উদ্যোগ বিটিআরসির
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মোবাইলে কথা বলার খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় বর্তমানে নির্ধারিত ভয়েস কলের সর্বনিম্ন রেট বা ‘ফ্লোর প্রাইস’ কমানোর বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে আয়োজিত গণশুনানিতে এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানানো হয়।

গণশুনানিতে দেশের টেলিযোগাযোগ সেবার মান, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, কলড্রপ, ভয়েস ও ডাটার মূল্য, ডাটা ক্যারি-ফরওয়ার্ড, সিম নিবন্ধন ও এনইআইআরসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ ও প্রশ্নের জবাব দেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা।

জামালপুর থেকে অংশ নেওয়া রকীব রায়হান কলরেট কমানোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দাবি জানান।

জবাবে বিটিআরসি জানায়, বর্তমানে ভয়েস কলের সর্বনিম্ন ট্যারিফ ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে সর্বনিম্ন রেট বা ফ্লোর প্রাইস কমানোর বিষয়ে কাজ চলছে।

টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বিটিআরসির প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিসুল আলম পারভেজ বলেন, রোলআউট বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি হাওরসহ দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক জোরদারে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে টেলিটক।

গাজীপুর থেকে তৌহিদ হাসান মাস্কিং ছাড়া আনমাস্কড এসএমএস আসায় স্প্যাম বার্তা শনাক্ত করা কঠিন হওয়া এবং বিদেশি ওটিপি পেতে দেরি হওয়ার অভিযোগ করেন।

জবাবে বিটিআরসি জানায়, সব ধরনের বার্তা পর্যায়ক্রমে মাস্কিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে বিদেশি ওটিপি পেতে কখনো কখনো বিলম্ব হতে পারে।

ডাটা প্যাকেজের ভিন্নতা নিয়ে আনোয়ার সাদাতের প্রশ্নের জবাবে কমিশন জানায়, প্রতিটি প্যাকেজের শর্ত গ্রাহকদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় নেটওয়ার্ক সচল রাখা নিয়েও গ্রাহকেরা প্রশ্ন করেন। এ বিষয়ে বিটিআরসি জানায়, নেটওয়ার্ক সচল রাখার সক্ষমতা বাড়াতে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশের মোবাইল টাওয়ারের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মোবাইল টাওয়ারের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ফুয়াদ হাসান খানের প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়মিত পরিমাপ করা হয়।

সংস্থাটির দাবি, এসব পরিমাপের ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত বিকিরণের মাত্রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের তুলনায় অনেক নিচে রয়েছে। ফলে বিদ্যমান মাত্রা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য নিরাপদ।

গণমাধ্যমকর্মী মো. এমদাদুল হকের প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি জানায়, গ্রাহকেরা কলসেন্টার ১০০, ওয়েবসাইট ও জিআরএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারছেন।

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কমিশনে মোট ১৩ হাজার ৯টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ২৭৯টি, অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৭০ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে এ হার নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বিটিআরসি। দ্রুততার সঙ্গে শতভাগ অভিযোগ নিষ্পত্তি করাই কমিশনের লক্ষ্য।

এ ছাড়া সেবার মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে খুব শিগগির বিটিআরসির ওয়েবসাইটে মাসভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও কর্মকর্তারা জানান।

প্রতি মাসে হবে গণশুনানি

গণশুনানিতে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০২৬)-এর ৮৭ ধারা অনুযায়ী এখন থেকে কমিশন প্রতি মাসে অন্তত একবার গণশুনানির আয়োজন করবে।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে জনগণ সরাসরি তাদের প্রশ্ন, মতামত, পরামর্শ ও উদ্বেগ তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। গণশুনানিতে পাওয়া গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো কার্য-পর্যবেক্ষণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সেগুলোর সমাধান ও অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

বিটিআরসি জানায়, এবারের গণশুনানিতে অংশ নিতে গত ১৭ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে মোট ২ হাজার ৯৯০ জন গ্রাহক নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৭ জন বিভিন্ন পেশাজীবী, ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী এবং ১৭২ জন নারী গ্রাহক ছিলেন।

নিবন্ধিত গ্রাহকদের জমা দেওয়া প্রশ্নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ও প্রশ্ন এসেছে ট্যারিফ, ডাটার মেয়াদ, ডাটা ক্যারি-ফরওয়ার্ড, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, সিম নিবন্ধন, এনইআইআর এবং সেবার মান নিয়ে।

গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কমিশনের সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন। অনলাইনে আয়োজিত এ গণশুনানিতে গ্রাহক, মোবাইল অপারেটর, বিভিন্ন অংশীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ জানান, ২০২৫ সালের গণশুনানিতে মোট ১ হাজার ৭৫৬টি অভিযোগ ও প্রশ্ন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে বিটিআরসির এখতিয়ারভুক্ত ২২১টি বিষয় চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট চার বিভাগে সমাধানের জন্য পাঠানো এবং নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

এসি/আপ্র/১৯/০৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

চীনে পিক্সেল ডিভাইসের উৎপাদন গুটিয়ে নিচ্ছে গুগল
১৮ আগস্ট ২০২৬

চীনে পিক্সেল ডিভাইসের উৎপাদন গুটিয়ে নিচ্ছে গুগল

আগামী বছর থেকে চীনে পিক্সেল ডিভাইসের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জা...

চলন্ত বাসে পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
১৮ আগস্ট ২০২৬

চলন্ত বাসে পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের জন্য চালু হওয়া বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিসে স্যাটেলাইটভিত্...

ডিলিট করা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দেখবেন যেভাবে
১৮ আগস্ট ২০২৬

ডিলিট করা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দেখবেন যেভাবে

হোয়াটসঅ্যাপে কাছের কেউ মেসেজ পাঠিয়ে সেটি সবার জন্য মুছে দিলে কৌতূহল হওয়া স্বাভাবিক। চ্যাটে ‘মেসেজটি...

খালি চোখেই আজ রাতে দেখা যাবে পার্সিড উল্কাবৃষ্টি
১২ আগস্ট ২০২৬

খালি চোখেই আজ রাতে দেখা যাবে পার্সিড উল্কাবৃষ্টি

বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্য পার্সিড উল্কাবৃষ্টি দেখা যেতে পারে আজ বুধবার রাতে। ১২ আগস্ট রা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপি সরকারের ছয় মাস: প্রত্যাশা কতটা, প্রাপ্তি কতখানি

আজ ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এর আগে ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নে সরকার যেমন বেশ কিছু অর্জনের কথা বলছে, তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকদের প্রশ্নও সামনে এসেছে। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ছয় মাসের লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সব কর্মসূচিই পূরণ হয়েছে-কোথাও ৯০, কোথাও ৯৫ এবং কোথাও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রিয় পাঠক, সরকার ভালো করছে নাকি মন্দ করছে? হ্যাঁ বা না জানান।

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে