কুষ্টিয়ায় তামাক কোম্পানির বিনামূল্যে দেওয়া প্রায় ৩৫ হাজার গাছের চারা বন বিভাগের মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানির নির্ধারিত নার্সারি থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনা এসব চারা বিনামূল্যে বিতরণের কথা থাকলেও সেগুলোর বড় একটি অংশ কোথায় গেছে, তার কোনো হিসাব দেখাতে পারেনি বন বিভাগ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছর ওই তামাক কোম্পানি সরকারি কোনো দপ্তরকে সরাসরি চারা দেয়নি। শুধু বেসরকারি সংস্থা ও সাধারণ মানুষের জন্য চারা সরবরাহ করেছে। তবে বন বিভাগ কয়েকজন ব্যক্তির নামে কাগজপত্র করে ৫০ হাজার চারা বরাদ্দ নেয়। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার চারা কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার কবুরহাট গ্রামের কদমতলার ‘মামা-ভাগ্নে নার্সারি’ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে নার্সারি মালিক দাবি করেছেন।
কিন্তু এসব চারা কোথায় বিতরণ করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তালিকা বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি বন বিভাগ। বরং বন বিভাগের দাবি, তারা ওই নার্সারি থেকে মাত্র ১৪ হাজার চারা এনেছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, নার্সারি মালিকের হিসাব অনুযায়ী যেখানে কমপক্ষে ৩৫ হাজার চারা সরবরাহ করা হয়েছে, সেখানে বন বিভাগের হিসাবে ১৪ হাজার হলে বাকি প্রায় ২১ হাজার চারার কী হলো?
নার্সারি মালিক আমির হামজা বলেন, বন বিভাগের লোকজন কমপক্ষে ৩৫ হাজার চারা নিয়েছেন। পরে চারা নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ভ্যান আটকের পর তারা আর চারা নিতে আসেননি। তার দাবি, এখনো বন বিভাগের কাছে আরও চারা পাওনা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নার্সারি থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে বিআইডিসি বাজারসংলগ্ন বন বিভাগের নার্সারিতে নিয়ে যাওয়া এসব চারার একটি অংশ সেখান থেকেই বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ভ্যানভর্তি চারা ওই নার্সারিতে আসা-যাওয়া করতে দেখা যায়। তবে কোনগুলো সরকারি বা বিনামূল্যের চারা আর কোনগুলো বন বিভাগের নিজস্ব উৎপাদিত, তা বোঝার উপায় নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগ নিজস্ব উৎপাদিত চারার সঙ্গে বিনামূল্যে পাওয়া চারাও বিক্রি করছে। আবার বিভিন্ন রেললাইন ও খালের পাড়ে বিনামূল্যের চারা দিয়ে বাগান করা হলেও, নিজেদের উৎপাদিত চারার বড় অংশ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার আবু বকর সিদ্দিক অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তারা ওই নার্সারি থেকে ১৪ হাজার চারা এনেছেন। কিছু বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রায় ১৩ হাজার চারা এখনো বন বিভাগের নার্সারিতে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তারা নিজেদের উৎপাদিত চারা বিক্রি করছেন।’
তবে বন বিভাগ এভাবে তামাক কোম্পানির বিনামূল্যের চারা এনে বিক্রি করতে পারে কি না, জানতে চাইলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল আলম বলেন, ‘কত চারা আনা হয়েছে বা বিক্রি হয়েছে, তা তিনি জানেন না। তবে এভাবে ওই নার্সারি থেকে চারা আনা উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।’
ফলে নার্সারি মালিকের সরবরাহের হিসাব এবং বন বিভাগের হিসাবে বড় ধরনের অসংগতি দেখা দিয়েছে।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসি/আপ্র/১৯/০৮/২০২৬