গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বিনামূল্যে চারা এনে বিক্রির অভিযোগ বন বিভাগের বিরুদ্ধে

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া

প্রকাশিত: ১৩:৩৯ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৪২ এএম ২০২৬
বিনামূল্যে চারা এনে বিক্রির অভিযোগ বন বিভাগের বিরুদ্ধে
ছবি

ছবি সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় তামাক কোম্পানির বিনামূল্যে দেওয়া প্রায় ৩৫ হাজার গাছের চারা বন বিভাগের মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানির নির্ধারিত নার্সারি থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনা এসব চারা বিনামূল্যে বিতরণের কথা থাকলেও সেগুলোর বড় একটি অংশ কোথায় গেছে, তার কোনো হিসাব দেখাতে পারেনি বন বিভাগ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছর ওই তামাক কোম্পানি সরকারি কোনো দপ্তরকে সরাসরি চারা দেয়নি। শুধু বেসরকারি সংস্থা ও সাধারণ মানুষের জন্য চারা সরবরাহ করেছে। তবে বন বিভাগ কয়েকজন ব্যক্তির নামে কাগজপত্র করে ৫০ হাজার চারা বরাদ্দ নেয়। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার চারা কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার কবুরহাট গ্রামের কদমতলার ‘মামা-ভাগ্নে নার্সারি’ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে নার্সারি মালিক দাবি করেছেন।

কিন্তু এসব চারা কোথায় বিতরণ করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তালিকা বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি বন বিভাগ। বরং বন বিভাগের দাবি, তারা ওই নার্সারি থেকে মাত্র ১৪ হাজার চারা এনেছেন।

প্রশ্ন উঠেছে, নার্সারি মালিকের হিসাব অনুযায়ী যেখানে কমপক্ষে ৩৫ হাজার চারা সরবরাহ করা হয়েছে, সেখানে বন বিভাগের হিসাবে ১৪ হাজার হলে বাকি প্রায় ২১ হাজার চারার কী হলো?

নার্সারি মালিক আমির হামজা বলেন, বন বিভাগের লোকজন কমপক্ষে ৩৫ হাজার চারা নিয়েছেন। পরে চারা নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ভ্যান আটকের পর তারা আর চারা নিতে আসেননি। তার দাবি, এখনো বন বিভাগের কাছে আরও চারা পাওনা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নার্সারি থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে বিআইডিসি বাজারসংলগ্ন বন বিভাগের নার্সারিতে নিয়ে যাওয়া এসব চারার একটি অংশ সেখান থেকেই বিক্রি করা হয়েছে।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ভ্যানভর্তি চারা ওই নার্সারিতে আসা-যাওয়া করতে দেখা যায়। তবে কোনগুলো সরকারি বা বিনামূল্যের চারা আর কোনগুলো বন বিভাগের নিজস্ব উৎপাদিত, তা বোঝার উপায় নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগ নিজস্ব উৎপাদিত চারার সঙ্গে বিনামূল্যে পাওয়া চারাও বিক্রি করছে। আবার বিভিন্ন রেললাইন ও খালের পাড়ে বিনামূল্যের চারা দিয়ে বাগান করা হলেও, নিজেদের উৎপাদিত চারার বড় অংশ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার আবু বকর সিদ্দিক অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তারা ওই নার্সারি থেকে ১৪ হাজার চারা এনেছেন। কিছু বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রায় ১৩ হাজার চারা এখনো বন বিভাগের নার্সারিতে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তারা নিজেদের উৎপাদিত চারা বিক্রি করছেন।’

তবে বন বিভাগ এভাবে তামাক কোম্পানির বিনামূল্যের চারা এনে বিক্রি করতে পারে কি না, জানতে চাইলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল আলম বলেন, ‘কত চারা আনা হয়েছে বা বিক্রি হয়েছে, তা তিনি জানেন না। তবে এভাবে ওই নার্সারি থেকে চারা আনা উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।’

ফলে নার্সারি মালিকের সরবরাহের হিসাব এবং বন বিভাগের হিসাবে বড় ধরনের অসংগতি দেখা দিয়েছে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসি/আপ্র/১৯/০৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

আখচাষিদের ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
২০ অক্টোবর ২০২৬

আখচাষিদের ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

‎নাজমুল হক, রাজশাহী: রাজশাহী পৌঁছেই ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষিকে সরকারি প্রণোদনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী...

ঘোড়াঘাটে সাবিত সীডসে ‘বীজ বিক্রেতা সমাবেশ’
২০ অক্টোবর ২০২৬

ঘোড়াঘাটে সাবিত সীডসে ‘বীজ বিক্রেতা সমাবেশ’

ঘোড়াঘাট প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভা ডিলার ও রিটেইলারদের নিয়ে ‘বীজ বিক্রেতা সমাবেশ ২০২৬’ অনু...

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
২০ অক্টোবর ২০২৬

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়

মোঃ নুর জামাল হক, রংপুর: শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং দেশের অসাম্প্রদায়িক চে...

ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সঙ্গে বনমন্ত্রীর মতবিনিময়
২০ অক্টোবর ২০২৬

ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সঙ্গে বনমন্ত্রীর মতবিনিময়

দাগনভূঞা প্রতিনিধি:  আজ (২০ অক্টোবর) দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাথে বন পরিবেশ ও জলব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বের অন্য কোথাও নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে যখন হানাহানি ও হিংসার আগুন জ্বলছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে