চাঁপাইনবাবগঞ্জে অধিক লাভ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১০৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ভুয়া এনজিও মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার অন্যতম মালিক নিশাত দিলরুবা জাহানকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তার বিরুদ্ধে তিন শতাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩০টি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল বলে জানিয়েছে র্যাব।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-১০-এর একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেপ্তার নিশাত দিলরুবা জাহান (৩৯) চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা সানোয়ার হোসেনের স্ত্রী। তিনি মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার পরিচালনা কমিটির নির্বাহী সদস্য। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানার ভাইয়ের স্ত্রীও তিনি। তার স্বামী সানোয়ার হোসেনও সংস্থাটির পরিচালনা কমিটির নির্বাহী সদস্য।
র্যাব-১০-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন নিশাত দিলরুবা জাহান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, অধিক লাভ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা। পরে সংস্থাটির বিরুদ্ধে প্রায় ১০৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে ২০২২ সাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে সংস্থাটির বিরুদ্ধে চার শতাধিক মামলা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা। এসব মামলায় বাদী গ্রাহকদের মোট আর্থিক দাবির পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি টাকা।
তবে মামলা করা চার শতাধিক গ্রাহকের বাইরে সংস্থাটির মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার বলে জানা গেছে। তাদের পাওনা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১০৫ কোটি টাকা।
এ ঘটনায় মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা, তার স্ত্রীসহ পরিবারের ১২ থেকে ১৩ জন সদস্য এবং কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
র্যাব জানায়, নিশাত দিলরুবা জাহানের বিরুদ্ধে তিন শতাধিক প্রতারণা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩০টি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসি/আপ্র/১৯/০৮/২০২৬