বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্য পার্সিড উল্কাবৃষ্টি দেখা যেতে পারে আজ বুধবার রাতে। ১২ আগস্ট রাত পেরিয়ে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত এই উল্কাবৃষ্টি সবচেয়ে সক্রিয় থাকবে। এ বছর অমাবস্যার কারণে আকাশে চাঁদের আলো না থাকায় উল্কার ঝলকানি দেখার পরিবেশও তুলনামূলক অনুকূল থাকবে।
আকাশ পরিষ্কার থাকলে এবং শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে কোনো খোলা ও অন্ধকার স্থানে অবস্থান করলে ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে রাত ১২টার পর থেকে ভোরের আগ পর্যন্ত উল্কাবৃষ্টি দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।
কেন হয় পার্সিড উল্কাবৃষ্টি?
পার্সিড উল্কাবৃষ্টির উৎস ধূমকেতু ১০৯পি/সুইফট-টাটল। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় ধূমকেতুটি মহাকাশে ধূলিকণা ও পাথুরে কণার একটি ধারা রেখে যায়। পৃথিবী প্রতিবছর ওই ধ্বংসাবশেষের অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় এসব কণা প্রচণ্ড গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে।
তখন রাতের আকাশে তৈরি হয় আলোর ঝলকানি, যা সাধারণভাবে ‘তারা খসা’ নামে পরিচিত।
কোথায় ও কীভাবে দেখবেন?
উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো থেকে পার্সিড উল্কাবৃষ্টি দেখার সুযোগ তুলনামূলক ভালো। তবে উল্কা দেখার জন্য আকাশের নির্দিষ্ট কোনো একটি জায়গায় তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন নেই।
পারসিয়াস নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে উল্কাগুলো ছুটে আসছে বলে মনে হলেও আকাশের বিভিন্ন অংশেই তাদের আলোর রেখা দেখা যেতে পারে। তাই যতটা সম্ভব বিস্তৃত আকাশ চোখের সামনে রাখাই ভালো।
পার্সিড উল্কাবৃষ্টি দেখতে টেলিস্কোপ বা দূরবীনের প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই এর ঝলকানি দেখা সম্ভব। তবে মেঘমুক্ত আকাশ এবং আশপাশে কম আলোর দূষণ থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তাই আজ রাতে সুযোগ থাকলে শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে নিরাপদ কোনো খোলা জায়গায় গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেন। কয়েক মিনিট অপেক্ষার পরই চোখের সামনে দেখা মিলতে পারে ‘তারা খসার’ মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের।
এসি/আপ্র/১২/০৮/২০২৬