খলিলুর রহমান খলিল, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের তারাগঞ্জে মার্কশিট তুলতে গিয়ে নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবির প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থী ও তার স্বজনকে শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তারাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেও দীর্ঘদিন কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট দুপুরে মোছা. রিজু মনি এসএসসি ও এইচএসসির মার্কশিট তুলতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান। এ সময় সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই তার কাছে ৪০০ টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দাবির আইনি ভিত্তি জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদের নির্দেশে ১২ থেকে ১৪ জন লোক রিজু মনির দেবরকে জোরপূর্বক একটি খালি শ্রেণিকক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে শিক্ষার্থী রিজু মনিকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে আহতদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, চিকিৎসকের দেওয়া পত্রেও শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। হামলাকারীরা তাদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ঘটনার প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রিজু মনি বলেন, ‘কোনো রসিদ ছাড়া ৪০০ টাকা চাওয়ার কারণ জানতে চাওয়াই কি আমাদের অপরাধ ছিল? আমার দেবরকে শ্রেণিকক্ষে আটকে রক্তাক্ত করা হয়েছে, আমাকেও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। বিচার না পেয়ে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অনতিবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৯/৯/২০২৬