পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় দরপত্র ছাড়াই আরো ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কিনবে সরকার। জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে ফরাসি বহুজাতিক জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম কোম্পানি টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুই কার্গো করে এসব এলএনজি আমদানি করা হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সরকারি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এলএনজি কেনার এ প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে সরকার ও টোটাল এনার্জিসের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আরো অতিরিক্ত কার্গো এলএনজি কেনারও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দরপত্র ছাড়া সরাসরি পদ্ধতিতে এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন।
এর আগে গত আগস্টে দুই দফায় দরপত্র ছাড়া মোট ২২ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯ আগস্ট সাতটি কোম্পানি থেকে দুই কার্গো করে মোট ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে ৬ আগস্ট একই পদ্ধতিতে আট কার্গো এলএনজি এবং দেশের আপৎকালীন এলপিজির চাহিদা পূরণ ও বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েল: এদিন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিঙ্গাপুরের ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড থেকে ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল কেনার প্রস্তাব আসে। এসব জ্বালানি কেনার জন্য সুপারিশকৃত দর ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা।
সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য একই ধরনের আরো ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং ৪০ হাজার টন জেট ফুয়েল কেনার প্রস্তাবেও সায় মেলে। এসব জ্বালানি সিঙ্গাপুরের ভাইটল এশিয়া থেকে কেনা হবে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।
একই সময়ের জন্য সিঙ্গাপুরের ইউনিপে সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টন ডিজেল কেনার প্রস্তাবও এসেছে। এ ক্ষেত্রে সুপারিশকৃত দর ৭৯২ কোটি টাকা।
এ ছাড়া ভাইটল এশিয়া থেকে আরো ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।
সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন ফার্নেস অয়েল কেনার প্রস্তাবও এসেছে। এ ক্ষেত্রে সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা। জ্বালানি কিনতে সুপারিশকৃত দর ধরা হয়েছে ৮০১ কোটি টাকা।
এসব প্রস্তাবের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রিমিয়াম ও রেফারেন্স মূল্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত দর নির্ধারণ করা হবে। আলোচনার পর নির্ধারিত দর পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সানা/আপ্র/৯/৯/২০২৬