কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের চাপ সামলাতেই ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেটা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মার্ক জাকারবার্গ এ সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেছেন, বাড়তি অবকাঠামোগত ব্যয়ই এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
কোম্পানির এক অভ্যন্তরীণ সভায় তিনি জানান, আগামী ২০ মে থেকে শুরু হওয়া ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় মোট জনবলের প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। পাশাপাশি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আরো কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।
জাকারবার্গ বলেন, প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের বড় দুটি খাত হলো কম্পিউটার অবকাঠামো এবং জনবল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানোয় অন্য খাতে ব্যয় সংকোচনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ কারণেই কর্মীর সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে আনা হচ্ছে।
তবে তিনি দাবি করেন, এ ছাঁটাইয়ের সঙ্গে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাঠামো গঠন বা মানুষের কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম ‘এআই এজেন্ট’ তৈরির প্রকল্পের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে, কোম্পানির এ সিদ্ধান্ত কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অভ্যন্তরীণ বার্তা ফোরামে অনেক কর্মী প্রকাশ্যে জাকারবার্গ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমালোচনাও করেছেন বলে জানা গেছে। একই সময়ে কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের উদ্যোগও এ ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
জাকারবার্গ কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো বা কাজের গতি বৃদ্ধি করা ছাঁটাইয়ের মূল কারণ নয়। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আরো তথ্য জানানো হবে।
উল্লেখ্য, মার্চ মাসে প্রথম এ ছাঁটাইয়ের খবর প্রকাশিত হলেও বৃহস্পতিবারের ওই সভাতেই জাকারবার্গ প্রথমবারের মতো সরাসরি কর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। যদিও পরবর্তী ছাঁটাই পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য দেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে জাকারবার্গ বলেন, আগামী কয়েক বছরের সবকিছু নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়ার মতো কোনো নিশ্চয়তা কারও কাছেই নেই।
সানা/ডিসি/আপ্র/২/৫/২০২৬