কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে স্পষ্ট মনোভাবগত পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। পুরুষেরা যেখানে এই প্রযুক্তিকে কাজের গুরুত্বপূর্ণ সহকারী হিসেবে দেখছেন, সেখানে নারীদের বড় একটি অংশ একে সন্দেহের চোখে দেখছেন।
একটি আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক নারী মনে করেন কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা অনেকটা প্রতারণার মতো। বিপরীতে পুরুষদের মধ্যে এমন ধারণা তুলনামূলকভাবে কম।
আমেরিকার একটি সংবাদমাধ্যমের পঞ্চম বার্ষিক ‘উইমেন অ্যাট ওয়ার্ক’ জরিপে এই প্রবণতা উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী প্রায় ৬৯ শতাংশ পুরুষ মনে করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহকারী ও সহযোগী। একই মত দিয়েছেন প্রায় ৬১ শতাংশ নারী।
তবে জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক নারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সন্দেহের চোখে দেখেন এবং মনে করেন কাজের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার অনেকটা প্রতারণার শামিল। অন্যদিকে এই ধারণার সঙ্গে একমত হয়েছেন প্রায় ৪৩ শতাংশ পুরুষ।
১০ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৩০ জনের অংশগ্রহণে এই জরিপ পরিচালিত হয়। আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের প্রায় তিন বছর পর এই গবেষণাটি সামনে আসে।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন কথোপকথন ব্যবস্থা, ছবি ও ভিডিও তৈরির প্রযুক্তি, সফটওয়্যার তৈরির সহায়ক ব্যবস্থা এবং নানা ধরনের ডিজিটাল সরঞ্জাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এখন অল্প কিছু লেখা নির্দেশনা দিয়েই বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার বা ডিজিটাল সেবা তৈরি করা তুলনামূলক সহজ হয়ে গেছে।
জরিপে আরো দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে নারীদের তুলনায় পুরুষরাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বেশি ব্যবহার করছেন। প্রায় ৬৪ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তারা কর্মক্ষেত্রে কখনো এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেননি। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৫৫ শতাংশ।
যারা নিয়মিত এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেন তাদের মধ্যেও পুরুষের সংখ্যা বেশি। প্রায় ১৪ শতাংশ পুরুষ বলেছেন, তারা দিনে একাধিকবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেন। নারীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৯ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবধান ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন না করলে কর্মজীবনে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
একটি বড় আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কোম্পানির ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, অনেক প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে কর্মীদের বড় একটি অংশ অভ্যন্তরীণ কাজে উন্নত ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ব্যবহার করছেন।
তবে প্রযুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে থাকলেও পুরুষদের বড় অংশ মনে করেন, এই বিষয়ে তাদের আরো প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৫৯ শতাংশ পুরুষ জানিয়েছেন, কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ হতে তাদের আরো প্রশিক্ষণ দরকার।
অন্যদিকে অনেক নারী মনে করেন, এই প্রযুক্তি গ্রহণ না করলেও তারা কর্মক্ষেত্রে খুব বেশি পিছিয়ে পড়বেন না। প্রায় ৪২ শতাংশ নারী এই ধারণার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার না করলে কর্মজীবনে ক্ষতি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম হারে এই প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ নেন, তাহলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য আরো বাড়তে পারে। কারণ নতুন প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে না পারলে পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এই ব্যবধান কমাতে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমান প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
সানা/আপ্র/৯/৩/২০২৬