সাংবাদিকতার কারণে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার বৈশ্বিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস সিপিজে। একই সঙ্গে তার গ্রেফতারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিপিজে জানায়, আসাদুজ্জামানকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় আটক রাখা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে একই নামের এক রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে বিভ্রান্তি হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
গত সোমবার (৮ জুন) আদালতে হাজির করার পর আসাদুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয় এবং পরবর্তী শুনানির জন্য এগারো জুন তারিখ রেখে তাকে যশোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
বিবৃতিতে সিপিজে আরো জানায়, আসাদুজ্জামানকে তার সাংবাদিকতার কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না-এটি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক না রাখার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এর আগে আট জুন রাত প্রায় দুইটার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, তিনি শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ। তবে আইনজীবী ও পরিবারের দাবি, তিনি একসময় শার্শা সরকারি মহিলা কলেজের প্রদর্শক ছিলেন এবং বর্তমানে শুধু সাংবাদিকতা করেন।
তারা জানান, একসময় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তবে কলেজ সরকারি হওয়ার পর তিনি ওই পদে আর ছিলেন না এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও কখনো ছিলেন না।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের নামও আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের এপিএস ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, নামের মিলের কারণে রাজনৈতিক নেতা আসাদুজ্জামান আসাদের পরিবর্তে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে ২০২৫ সালের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
তবে স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের মতে, শীর্ষস্থানীয় একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে তাকে ভুল করা পুলিশের জন্য কঠিন হওয়ার কথা।
সাংবাদিকদের প্রতিবাদ ও আপত্তি উপেক্ষা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে বলেও কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
যে মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা ২০২৫ সালের এক অক্টোবর শার্শা থানায় দায়ের করেন শার্শা ইউনিয়ন বিএনপির চার নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আয়নাল হক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, স্লোগান দেওয়া এবং সড়ক ও কালভার্টের ক্ষতির চেষ্টা করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করেছে।
মামলায় আওয়ামী লীগের সাতজনের নাম উল্লেখ করা হলেও আসাদুজ্জামান নামের কেউ সেখানে নেই।
বাদী আয়নাল হক পরে জানান, তিনি অভিযোগগুলো নিজে দেখেননি; থানায় ডেকে নিয়ে তাকে ভিডিও দেখিয়ে মামলা করতে বলা হয় এবং সে অনুযায়ী তিনি মামলা করেন।
তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক ও সাবেক কলেজ শিক্ষক আসাদুজ্জামানকে তিনি চেনেন না। তবে সাবেক এপিএস আসাদুজ্জামান আসাদকে তিনি চেনেন এবং তিনিই মামলার মূল ব্যক্তি।
ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আসাদুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে শার্শা থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হয়।
সিপিজের বিবৃতি প্রকাশের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, গ্রেফতারের ভিত্তি ও প্রক্রিয়া তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সানা/আপ্র/১১/৬/২০২৬