উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। লঘুচাপটি মৌসুমি বায়ুকে আরও সক্রিয় করায় আগামী পাঁচ দিন দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। এ সময়ে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী, এমনকি অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত মৌসুমি বায়ুর অক্ষ বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার ও মঙ্গলবার বৃষ্টিপাতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এ সময় দেশের আট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার কথা জানানো হয়েছে।
বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রাও কিছুটা কমতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী দুই দিনে দিন ও রাত—উভয় সময়ের তাপমাত্রাই সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
গত ২৪ ঘণ্টায় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে হাতিয়ায়। এছাড়া রামগতি ও কয়রায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নারায়ণগঞ্জে ২৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে নিচু এলাকা ও পাহাড়ি অঞ্চলে জলাবদ্ধতা কিংবা ভূমিধসের ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নৌযানগুলোকে আবহাওয়ার পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
সানা/আপ্র/২৬/৭/২০২৬