রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে রান্নার জন্য গভীর রাত বা ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিশু ও বয়স্ক সদস্য থাকা পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। তবে কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলে গ্যাসের স্বল্প চাপেও রান্নার ঝামেলা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন
গ্যাসের ব্যবহার কমাতে রান্নার সময় কমানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ডাল, ছোলা, রাজমা বা চাল রান্নার আগে কয়েক ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত সিদ্ধ হয় এবং কম গ্যাস লাগে।
রান্নার সময় হাঁড়ির ঢাকনা ব্যবহার করুন। এতে তাপ বাইরে বের হয় না, ফলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়। পাশাপাশি একাধিক পদ আলাদা করে রান্না না করে খিচুড়ি, সবজি-ডাল বা এক হাঁড়িতে তৈরি করা যায় এমন খাবার বেছে নিলে সময় ও গ্যাস—দুটিই সাশ্রয় হবে।
উপকরণ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন
চুলা জ্বালানোর আগে সবজি ধুয়ে ও কেটে রাখা, মসলা প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ হাতের কাছে রাখুন। এতে রান্নার সময় অযথা বিলম্ব হবে না এবং গ্যাসের অপচয়ও কমবে।
বিকল্প যন্ত্র ব্যবহার করুন
বাড়িতে ইন্ডাকশন কুকার, ইলেকট্রিক হটপ্লেট, মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা এয়ার ফ্রায়ার থাকলে সেগুলোর ব্যবহার বাড়াতে পারেন। চা তৈরি, দুধ বা পানি গরম করা, খাবার গরম করা কিংবা হালকা রান্নার কাজে এসব যন্ত্র কার্যকর হতে পারে।
গ্যাস থাকতেই বেশি রান্না করুন
গ্যাসের চাপ ভালো থাকলে একবারে বেশি পরিমাণে ভাত, ডাল, মাংস বা তরকারি রান্না করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। পরে শুধু গরম করলেই হবে। এতে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় চুলা জ্বালিয়ে রাখতে হবে না।
রান্না ছাড়াই খাওয়া যায় এমন খাবার রাখুন
গ্যাস সংকটের দিনে দই-চিড়া, ফলের সালাদ, অঙ্কুরিত ছোলার সালাদ, স্যান্ডউইচ, ওটস কিংবা দই-ফল দিয়ে তৈরি খাবার রাখতে পারেন। এগুলো পুষ্টিকর এবং দ্রুত প্রস্তুত করা যায়।
প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন
ডাল, মাংস, আলু বা শক্ত সবজি রান্নায় প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে সাধারণ হাঁড়ির তুলনায় অনেক কম সময়ে রান্না শেষ হয়। এতে গ্যাসের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
আধা-প্রস্তুত খাবার সংরক্ষণ করুন
আগে থেকেই কাবাব, কাটলেট, নাগেট, পরোটা বা রান্না করা ডাল ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখলে প্রয়োজনের সময় অল্প গরম করেই পরিবেশন করা যাবে।
পরিবারের সবাইকে সম্পৃক্ত করুন
রান্নার পুরো দায়িত্ব একজনের ওপর না দিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ছোটখাটো কাজে যুক্ত করুন। কেউ সবজি কাটতে, কেউ উপকরণ প্রস্তুত করতে বা খাবার সংরক্ষণে সহায়তা করলে কাজ দ্রুত শেষ হবে এবং চাপও কমবে।
অল্প পরিকল্পনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করলে গ্যাসের স্বল্প চাপের মধ্যেও দৈনন্দিন রান্নার ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মাই কিচেন ডাইরি
এসি/আপ্র/২৬/০৭/২০২৬