অফিসের চাপ, একের পর এক সভা, কাজের সময়সীমা ও পারিবারিক নানা দায়িত্ব—সব মিলিয়ে ব্যস্ত জীবনে সঙ্গীকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া অনেকের কাছেই কঠিন হয়ে পড়ে। দিনের শেষে একই ঘরে থেকেও একজন হয়তো কম্পিউটারে ব্যস্ত, অন্যজন মুঠোফোনে। কথাবার্তাও সীমাবদ্ধ থাকে সংসারের প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে। এভাবে ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে আন্তরিকতা, তৈরি হতে পারে অভিমান ও মানসিক দূরত্ব।
তবে সম্পর্ক ভালো রাখতে সবসময় দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানো জরুরি নয়। বরং অল্প সময়কে কতটা আন্তরিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ততার মাঝেও কিছু ছোট অভ্যাস সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখতে পারে।
প্রতিদিন নিজেদের জন্য ১০ মিনিট
সম্পর্কের জন্য প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কাজের ফাঁকে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে এমন একটি সময় বেছে নিন, যখন দু’জনই কিছুটা নিরিবিলি থাকতে পারবেন।
এই সময় সংসারের হিসাব, বাজারের তালিকা কিংবা অফিসের কাজ নিয়ে আলোচনা না করে একে অপরের দিন কেমন গেল, কী ভালো লেগেছে বা কোন বিষয়টি বিরক্ত করেছে—এসব নিয়ে কথা বলতে পারেন। সঙ্গী কথা বলার সময় মনোযোগ দিয়ে শুনুন। পাশে থেকেও যদি মন অন্যদিকে থাকে, তাহলে একসঙ্গে কাটানো সময়ের প্রকৃত সুফল পাওয়া যায় না।
তাই সম্ভব হলে এই কয়েক মিনিটের জন্য মুঠোফোনসহ অন্য বিভ্রান্তির বিষয়গুলো দূরে রাখুন।
সময় পাওয়ার অপেক্ষা নয়, সময় তৈরি করুন
‘সময় পেলে একসঙ্গে থাকব’—ব্যস্ত জীবনে এমন পরিকল্পনা অনেক সময় বাস্তবায়ন করা যায় না। কারণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সময় পাওয়ার চেয়ে সময় তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ।
সপ্তাহে অন্তত একটি নির্দিষ্ট সন্ধ্যা শুধু দু’জনের জন্য রাখতে পারেন। বাইরে খেতে যাওয়া, কাছাকাছি কোথাও হাঁটা, বাড়িতে একসঙ্গে সিনেমা দেখা কিংবা পছন্দের কোনো খাবার রান্না করা—সবই হতে পারে সেই সময়ের অংশ। এটিকে বাড়তি কোনো কাজ মনে না করে সম্পর্কের যত্ন নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখুন।
ছোট ছোট অভ্যাস তৈরি করুন
সম্পর্কে বড় আয়োজনের চেয়ে নিয়মিত ছোট ছোট মুহূর্ত অনেক সময় বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে। সকালে একসঙ্গে চা খাওয়া, অফিসে যাওয়ার আগে কয়েক মিনিট কথা বলা, রাতে ঘুমানোর আগে দিনের একটি মজার ঘটনা ভাগ করে নেওয়া কিংবা ছুটির দিনে একসঙ্গে নাশতা করার মতো অভ্যাস দু’জনের মধ্যে আলাদা এক ধরনের বন্ধন তৈরি করতে পারে।
দু’জনের কাজের সময়সূচি আলাদা হলেও এমন কিছু মুহূর্ত বের করা সম্ভব, যা শুধু দু’জনের জন্য নির্ধারিত থাকবে।
মনের কথা নিজেই জানান
সঙ্গী নিজে থেকেই আপনার মনের কথা বুঝে নেবেন—এমন প্রত্যাশা অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির কারণ হয়। একজন হয়তো ভাবছেন, ‘অনেক দিন ভালো করে কথা হয়নি, আজ একটু সময় কাটাতে চাই।’ অন্যজন হয়তো ভাবছেন, ‘সারাদিন কাজ করেছে, এখন তাকে একটু বিশ্রাম দেওয়া দরকার।’
দু’জনের চাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু না বললে তা অন্যজনের কাছে পৌঁছাবে না। তাই অভিমান জমিয়ে না রেখে নিজের প্রয়োজন, অনুভূতি ও প্রত্যাশার কথা শান্তভাবে সঙ্গীকে জানান।
অল্প সময় হলেও মনোযোগ থাকুক
প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একসঙ্গে থাকার সুযোগ নাও হতে পারে। কখনো ৩০ মিনিট, কখনো হয়তো মাত্র ১০ মিনিট—যতটুকু সময়ই পাওয়া যায়, সেটিকে অর্থবহ করে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ।
একই ঘরে বসে দু’জন আলাদা পর্দায় ডুবে থাকার চেয়ে অল্প সময়ের জন্য হলেও মুখোমুখি বসে মন খুলে কথা বলা সম্পর্কের জন্য বেশি কার্যকর।
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবসময় দামি উপহার কিংবা ঘন ঘন ভ্রমণের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন, মনোযোগ ও আন্তরিকতা। প্রতিদিনের ছোট ছোট এই মুহূর্তই ধীরে ধীরে সম্পর্ককে আরও গভীর ও উষ্ণ করে তুলতে পারে।
সূত্র: মিডিয়াম, দ্য ইকোনমিক টাইম
এসি/আপ্র/০৯/০৯/২০২৬