গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মেনু

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৪:০১ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৪৭ এএম ২০২৬
রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব
ছবি

বঙ্গভবনের ফাইল ছবি

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তন কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি একদিকে যেমন একটি ব্যক্তিগত বাস্তবতার প্রতিফলন, অন্যদিকে তেমনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক পরিপক্বতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার পদত্যাগপত্রে নিজের শারীরিক জটিলতার যে বিবরণ দিয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুতর। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার এবং সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া স্নায়বিক সমস্যার কারণে তিনি রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নিজেকে অসমর্থ মনে করেছেন। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় তার পদত্যাগকে দায়িত্বশীল ও বাস্তবতানির্ভর সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা উচিত।

তবে এই পদত্যাগের গুরুত্ব কেবল একজন ব্যক্তির দায়িত্ব ছাড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় কাঠামো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছিল, তা মোকাবিলায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত গ্রহণ এবং পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন, তা রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার দৃষ্টিতে মূল্যায়নের দাবি রাখে।

রাষ্ট্রপতির পদ কোনো রাজনৈতিক দলের পদ নয়; এটি সমগ্র রাষ্ট্রের প্রতীকী অভিভাবকের দায়িত্ব। এই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত সংবিধানের প্রতি আনুগত্য, রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের আস্থার প্রতি সম্মান। রাজনৈতিক বিতর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার স্বার্থে ব্যক্তির ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি।

বর্তমানে জাতির দৃষ্টি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে। সংবিধান নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কে আসছেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা, বিশ্লেষণ ও জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট-রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এমন একজন ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেওয়া হোক, যিনি রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় সমৃদ্ধ, নৈতিকতায় দৃঢ়, জাতীয় স্বার্থে অবিচল এবং সব ধরনের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বকারী অনেক গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা হলো-দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিশেষ স্বার্থের প্রতি আনুগত্য নয়; জনগণের কল্যাণ ও দেশের স্বার্থই হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের প্রধান ভিত্তি।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের দায়িত্ব গ্রহণও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বাস্তবতা। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর প্রধান দায়িত্ব হবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা অটুট রাখা, নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। একজন যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত করা গেলে তা শুধু রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠানকেই শক্তিশালী করবে না, জনগণের আস্থার ভিত্তিও আরো দৃঢ় করবে।

বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা। কারণ ব্যক্তি পরিবর্তনশীল, কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান স্থায়ী। রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে দায়িত্বশীলতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি অটল থাকাই হবে রাষ্ট্রের স্থিতিশীল ভবিষ্যতের প্রধান নিশ্চয়তা।
সানা/আপ্র/২৬/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

জ্বালানি নিরাপত্তায় আর কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই
২৫ জুলাই ২০২৬

জ্বালানি নিরাপত্তায় আর কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল সেতু, সড়ক বা উঁচু ভবন নির্মাণে পরিমাপ করা যায় না; নাগরিকের ঘরে চুলা জ্বলে...

ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিন
২৩ জুলাই ২০২৬

ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিন

হামে শিশুমৃত্যু আটশ অতিক্রম

নৈতিকতার কাঠগড়ায় রাজনীতি, জনআস্থার সুরক্ষায় কঠোরতার বিকল্প নেই
২৩ জুলাই ২০২৬

নৈতিকতার কাঠগড়ায় রাজনীতি, জনআস্থার সুরক্ষায় কঠোরতার বিকল্প নেই

গণতন্ত্রে একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর পদ নয়, জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। সংসদ সদস্যরা...

শোকের চেয়ে বড় রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার পরীক্ষা
২২ জুলাই ২০২৬

শোকের চেয়ে বড় রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার পরীক্ষা

মাইলস্টোন দুর্ঘটনার এক বছর============

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

সাহাবুদ্দিন বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে