মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে করানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, হাসপাতালের ভেতরে রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করে বাইরে নিয়ে পরীক্ষা করানো হচ্ছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজপত্র দেখে মন্ত্রী বলেন, “আমি ১৫-২০ জন রোগীর কাগজ দেখেছি, সব ফটোকপি নিয়েছি। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করানো হয়েছে।”
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “গতকাল একটা ভিডিও বের হয়েছে, কারা কারা এসেছে-ওই নামগুলোও আমার কাছে আছে। ওইটাই দেখে গেলাম। ওই অনিয়মটা দেখে গেলাম, আপনারাও (সাংবাদিকরা) দেখেছেন।”
এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “পরবর্তীতে ব্যবস্থা যা নেওয়ার, আমরা দেখব। দোয়া রাইখেন-অনিয়ম থাকবে না। হয়তো আমি থাকব, আর না হয় এটা (অনিয়ম) থাকবে-দুইটার একটা হবে।”
দেশের স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা একদিনে সব পারব-এটা বলি না। কিন্তু যখন যেটা জানব, শক্ত হাতে এটা দমন করব। আর এখানে যা দেখে গেলাম, জাস্ট ওয়েট ফর অ্যানাদার টোয়েন্টিফোর আওয়ারস হোয়াট আই অ্যাম গোয়িং টু ডু।”
হাসপাতালের বাইরে থেকে রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “বাইরের যত প্রতিষ্ঠান, জমজম আরো কী কী, ফেরিওয়ালার মতো রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। বাইরে থেকে আমার রোগীরা টাকা দিয়ে রক্ত পরীক্ষা করায়।”
তিনি বলেন, “একটা শূন্য ভান্ডার নিয়ে আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি ফ্যাসিস্টদের পরে। এর পরও আমরা কষ্ট করে টাকা দিচ্ছি। জনগণের টাকাই জনগণের জন্য দিচ্ছি। সেই টাকার সুবিধা জনগণ এখানে পাচ্ছে না। এখানে ডেঙ্গু রোগীদের রক্ত বাইরে থেকে এসে ফেরিওয়ালার মতো সংগ্রহ করে নিয়ে যায় পরীক্ষা করানোর জন্য।”
এক সাংবাদিক এ অনিয়মের পেছনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় আছে কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই দায় আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দিনের বেলা রক্ত নেয়, এটা আমাকে প্রশ্ন করা লাগে? দিনের বেলা বাইরে ফেরিওয়ালার মতো এসে রক্ত নেয়, এটা দায় থাকবে না মানে? অবশ্যই তারা এর জন্য দায়ী।”
মুগদা হাসপাতালের সেবার মান ও বিভিন্ন অনিয়ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী আকস্মিক পরিদর্শনে সেখানে যান।
পরিদর্শনের সময় ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ব্যবহারের বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “বাইরে যত জায়গায় যাচ্ছি, আমি ডেঙ্গু রোগীদের মশারি পাচ্ছি। কিন্তু এখানে দেখি নাই বা অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও তেমন কোনো মশারি ব্যবহার করে না। কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক।”
তিনি বলেন, “এটা আজকে থেকে আরো কঠিনভাবে তদারক করব। রোগীরাও অনেক সময় মশারি নিতে চায় না, বাধ্য করতে হবে মশারি নিতে। কারণ তা না হলে আমার ভালো রোগীগুলো অসুস্থ হয়ে যাবে। এটা এখানে আজকে থেকে বাধ্যতামূলক করবেন।”
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আরো তিন মাস আগে থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধের ওপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা জোর দিয়েছি। এখন সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, আমাদের জেলা প্রশাসকগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ সমন্বিতভাবে সিভিল সার্জন, ডাক্তারদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছি।”
বরিশাল ও পিরোজপুরে সুপারি গাছের গোড়ায় পানি জমে ডেঙ্গুর লার্ভা সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “আপনারা জানবেন, আমরা বরিশালে, পিরোজপুর জেলায় সুপারি গাছ-বয়স্ক সুপারি গাছ কেটে ফেলে আধা হাত, এক হাত থেকে যায় গোড়াটা। ওইটার আশ যখন পচে যায়, পানি জমে ওটাতে, লার্ভা হয়। একজন ম্যাজিস্ট্রেট ওখান থেকে রিপোর্ট করার পরে সমস্ত গাছ আমরা কাটিয়েছি।”
দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে ডেঙ্গুর লার্ভা সৃষ্টি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দেশটা খানাখন্দে ভর্তি। যত্রতত্র লার্ভার সৃষ্টি হয়। সে লার্ভা মারার জন্য পয়সা খরচ করে ট্যাবলেট ব্যবহার করছি। সিটি করপোরেশন গত তিন মাস যাবত মশা মারার জন্য স্প্রে করছে। যে কারণে মশা এবার একটু দেরিতে এসে আমাদের আক্রমণ করেছে।”
সানা/আপ্র/১১/৯/২০২৬