গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

অবৈধ শুক্রাণু দানের ফাঁদে ব্রিটিশ নারীরা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫৫ পিএম, ১১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৩৮ এএম ২০২৬
অবৈধ শুক্রাণু দানের ফাঁদে ব্রিটিশ নারীরা
ছবি

বৈধ ফার্টিলিটি চিকিৎসার বাইরে গিয়ে অনেক নারী সামাজিক মাধ্যমে শুক্রাণু দাতাদের খুঁজছেন -ছবি সংগৃহীত

 অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ শুক্রাণু দানের ফাঁদে অসহায় হয়ে পড়ছেন যুক্তরাজ্যের অনেক নারী-এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সন্তান জন্মদানে ব্যাকুল নারীরা ব্যয়বহুল চিকিৎসার বিকল্প খুঁজতে গিয়ে অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকছেন বলে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈধ ফার্টিলিটি চিকিৎসার বাইরে গিয়ে অনেক নারী সামাজিক মাধ্যমে শুক্রাণু দাতাদের খুঁজছেন। এতে একটি বিশাল অনিয়ন্ত্রিত বাজার তৈরি হয়েছে, যেখানে কিছু ওয়েবসাইটকে ‘শুক্রাণুর জন্য টিন্ডার’ বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে।

এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেওয়া এক ব্যক্তি মাত্র একশ পাউন্ডের বিনিময়ে শুক্রাণুর নমুনা ডাকযোগে পাঠান। ওই ব্যক্তি নিজের এ সেবাকে ‘বেবি ব্যাটার’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং অব্যবহৃত পাত্র ও সাধারণ ঠান্ডা রাখার উপকরণে নমুনা পাঠান বলে জানা যায়।

লাইসেন্সবিহীন এসব দাতাদের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, এতে নারীরা শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন। অনেকে আবার সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে সন্তান ধারণের প্রস্তাব দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো উঠে এসেছে, ‘জো ডোনার’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে সক্রিয় দাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেছেন, তার প্রায় একশ আশি জন সন্তান রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তার আসল পরিচয় প্রকাশ করে আদালত তাকে সতর্ক করে দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনে দাতা খোঁজার ক্ষেত্রে অনেক নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো নিশ্চয়তা ছাড়াই নমুনা গ্রহণ করতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহের পর দেখা গেছে, সেগুলো কার্যত অকার্যকর।

এ ধরনের অনলাইন গ্রুপে হাজার হাজার সদস্য রয়েছে, যেখানে কিছু দাতা অর্থ দাবি করেন, আবার কেউ কেউ গোপন তথ্য ছাড়াই প্রজনন প্রক্রিয়ার চাপ প্রয়োগ করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এক নারী ও তার সঙ্গী জানান, ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে তারা অনলাইন বিকল্প বেছে নিতে বাধ্য হন। পরে তারা তুলনামূলক নিরাপদ একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন, তবে আইনি জটিলতার আশঙ্কা থেকেই যায়।

যুক্তরাজ্যের মানব প্রজনন ও ভ্রূণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, লাইসেন্সবিহীন যেকোনো শুক্রাণু দান আইনত অপরাধ এবং এতে গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ায় নারীরা নিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং আইনি জটিলতার মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মগুলো এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
সানা/আপ্র/১১/৬/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

আগস্টে নির্যাতনের শিকার ২৫২ নারী-কন্যাশিশু
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগস্টে নির্যাতনের শিকার ২৫২ নারী-কন্যাশিশু

গত আগস্ট মাসে দেশে ২৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৫ জন...

গবেষণা: শিশুর যত্নে বাবাদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে কম
২৮ আগস্ট ২০২৬

গবেষণা: শিশুর যত্নে বাবাদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে কম

শিশুর সুস্থ ও পূর্ণাঙ্গ বিকাশে বাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও বাস্তবে তাঁরাই শিশুদের যত্নে সবচেয়ে...

আমিরাতের প্রথম নারী পাইলট প্রশিক্ষণ অধিনায়ক তিনি
২৮ আগস্ট ২০২৬

আমিরাতের প্রথম নারী পাইলট প্রশিক্ষণ অধিনায়ক তিনি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান খাতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ইতিহাদ এয়ারওয়েজের অধিনায়ক হুদা আল মুসাল্লামি। দেশ...

শোষণমূলক ও বিপজ্জনক কাজে নিয়োজিত লেখাপড়াবঞ্চিত শিশুরা
১৯ আগস্ট ২০২৬

শোষণমূলক ও বিপজ্জনক কাজে নিয়োজিত লেখাপড়াবঞ্চিত শিশুরা

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি বেশি শিশু এখন নগর ও শহরে বাস করে। অনেকেই শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত পেলেন বিরোধীদলীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রধান দুই দলের প্রধানদের এমন আচরণের ইতিবাচক প্রভাব দেশের রাজনীতিতে পড়বে ?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে