সাতক্ষীরায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কেবিএস-আরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন দুটি সড়ক ও দুটি ব্রিজ নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করে আংশিক নির্মাণের পর কাজ বন্ধ রাখায় দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালে ২৩ কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৫ টাকা ব্যয়ে আশাশুনি উপজেলায় দুটি সড়ক ও দুটি ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের মধ্যেই এসব কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো আংশিক কাজ সম্পন্ন করে বাকি অংশ ফেলে রেখেছে।
সড়ক নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার খিলক্ষেতের আবিদ মুনসুর কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটি কেবিএস-আরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় আশাশুনি বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ অফিস-কাপসন্ডা বাজার-ভায়া বাইনতলা ও ফটিকখালী সড়ক নির্মাণের কাজ পায়। এ কাজের চুক্তিমূল্য ছিল ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৬ হাজার ৭৫৫ টাকা। একই প্রকল্পের আওতায় কাপসন্ডা বাজার থেকে খাজরা ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক নির্মাণের কাজও প্রতিষ্ঠানটি পায়, যার চুক্তিমূল্য ছিল ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৬ হাজার ৩৩ টাকা। উভয় সড়কের কাজ ২০২৩ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে বরিশাল সদরভিত্তিক মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স হাজী এন্টারপ্রাইজ দুটি ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব পায়। এর মধ্যে খেজুরডাঙ্গা-তালবাড়িয়া সড়কের খালের ওপর পিএসসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য ছিল ৬ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার ৩৮২ টাকা। কাজটি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। একই প্রকল্পের আওতায় মহিষাডাঙ্গা হাইস্কুল থেকে গণেশের খেয়াঘাট পর্যন্ত সংযোগস্থলে পিএসসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজের চুক্তিমূল্য ছিল ৭ কোটি ১৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৫ টাকা। এ কাজ ২০২৩ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটিও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়ক ও দুটি ব্রিজের কাজ শেষ না করেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা কার্যত উধাও হয়ে গেছেন। ফলে প্রায় পাঁচ বছর ধরে উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে রয়েছে। আংশিক কাজের পর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
বর্তমানে অসম্পূর্ণ সড়ক ও ব্রিজগুলো এলাকাবাসীর চলাচলের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, অনেক স্থানে হেঁটেও চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালু এবং বর্ষাকালে হাঁটুসমান কাদার মধ্যে উঁচুনিচু রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। দ্রুত সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রকৌশলী আব্দুর রহমান মুহিম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে প্রকল্পগুলোর তদারকি করছে।
সাতক্ষীরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খান বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের মধ্যেই সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারদের কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করা হবে। চুক্তি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ শেষ করার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে আবিদ মুনসুর কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সানা/আপ্র/১১/৬/২০২৬