চট্টগ্রামে পৃথক দুটি ঘটনায় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। জেলার পটিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ সময় দুইজনকে আটক করা হয়। একই দিনে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় নালা পরিষ্কারের সময় উদ্ধার হয়েছে দেড় হাজারের বেশি বুলেট। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে নগরের শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকায় বিএসআরএমের ৫ নম্বর গেটসংলগ্ন একটি নালা থেকে এসব বুলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পটিয়ার কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন ওই ইউনিয়নের ইন্নারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৪) ও মো. মহসিন (৩৩)।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কেলিশহর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় জেলা ডিবির একটি দল। প্রথমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইন্নারপাড়ায় দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে ছয়টি কিরিচ, পাঁচটি রামদা, একটি দামাদা, একটি লোহা কাটার যন্ত্র এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে একই এলাকার ছাতিভাঙা আফছারের গাছবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুকিয়ে রাখা দুটি একনলা বন্দুক ও দুটি দেশীয় এলজি উদ্ধার করে পুলিশ।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল বলেন, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ত্রের উৎস, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী চক্র শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় নালা পরিষ্কারের সময় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের বুলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফা কামাল জানান, নালা পরিষ্কারের সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিপুল পরিমাণ বুলেট দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া বুলেটের মধ্যে ১২০টি বড় আকারের এবং ১ হাজার ২০০টির বেশি ছোট আকারের বুলেট রয়েছে। বড় আকারের বুলেটগুলো একে-৪৭সহ ভারী অস্ত্রে ব্যবহৃত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এসব বুলেট কীভাবে সেখানে এলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
চট্টগ্রামে একই সময়ে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বুলেটের সঙ্গে কোনো অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৫/৭/২০২৬