বাংলাদেশের হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও লোকজ জীবনধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে শুরু হয়েছে ‘বর্ষামঙ্গল উৎসব ১৪৩৩’।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৫টায় রবীন্দ্র সরোবরের মুক্তমঞ্চে নাচ, গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবটির উদ্বোধন করা হয়।
বর্ষামঙ্গল পর্ষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের বর্ষাকালীন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও লোকজ জীবনধারাকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা। একই সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি নতুন প্রজন্মের ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা ও গর্ববোধ জাগিয়ে তোলাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্ষামঙ্গল উৎসবকে ভবিষ্যতে পয়লা বৈশাখের মতো একটি সর্বজনীন, জনপ্রিয় ও জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে এ উৎসব আয়োজন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ, শিল্পী, সাহিত্যিক, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আয়োজকেরা বলেন, বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্মের একটি অংশ দেশীয় সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতির ওপর নানা ধরনের প্রভাবও তৈরি হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় বর্ষামঙ্গল উৎসবের মতো আয়োজন দেশের নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা আরো বলেন, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে সহায়ক। সেই লক্ষ্য থেকেই বর্ষার ঐতিহ্য ও বাঙালির জীবনধারাকে কেন্দ্র করে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবে বর্ষার গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনাসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন রাখা হয়েছে। শিল্পী, কবি, আবৃত্তিশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সর্বস্তরের সংস্কৃতিপ্রেমীদের অংশগ্রহণে এটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকেরা।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৫/৭/২০২৬