সিলেট সংবাদদাতা: জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপি সরকারকে আর সহযোগিতা করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে এবং গণভোটের রায় উপেক্ষা করে, তাহলে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করে ক্ষমতায় থাকা তাদের জন্য কঠিন হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তাঁর দোসরদের বিচারের দাবিতে’ এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে-তিনি জনগণের রায়কে সম্মান করে পাঁচ বছর নির্বাচিতভাবে ক্ষমতায় থাকতে চান, নাকি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে অন্যদের মতো পরিণতি বরণ করতে চান।
তিনি বলেন, ‘‘জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সরকারের প্রতি আমাদের সহযোগিতা থাকবে না।’’
প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের অভিযোগ: বিএনপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও পুনর্গঠন করতে হবে। তা না হলে বর্তমান নির্বাচন কমিশনারদের পদত্যাগ করা উচিত।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংস্কার বনাম সংশোধন’ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের প্রয়োজন নেই। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মধ্যেই এ বিষয়ে সমাধান হয়েছিল।
তিনি বলেন, শুধু সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন সম্ভব নয়। দেশের প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার করতে হলে সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদের প্রয়োজন হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা উল্লেখ থাকলেও নির্বাচনের পর তারা সংস্কারের বিষয়টি ভুলে গেছে। এখন তারা শুধু সংশোধনের কথা বলছে।
জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগ স্মরণের আহ্বান: এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বিএনপি যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন এবং দেশের মানুষের আত্মত্যাগ ভুলে যায়, তাহলে এর রাজনৈতিক পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘‘জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের।’’
ভারতের আন্দোলনরত তরুণদের অভিনন্দন: ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ও জুলাই আন্দোলনের পক্ষ থেকে ভারতের আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে ক্ষোভ: দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। এর আগে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেটে মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন হলেও সংস্কার কার্যক্রম না থাকায় সরকার সেই সহযোগিতা পাচ্ছে না।
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৫/৭/২০২৬