উপযুক্ত মাটি ব্যবহার করে ফসল, গবাদিপশু, মাছ, ফলদ ও বনজ সম্পদ উৎপাদনের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি বা অনুশীলনকে কৃষি বলা হয়। কৃষিকাজে নিয়োজিত থাকলে যেমন সতেজ খাবার পাওয়া যায়; তেমনই মানসিক স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে। তাই ব্যক্তিজীবনে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। অলস সময়ে কৃষিকাজে নিয়োজিত থাকলে মন ভালো থাকে। একই সঙ্গে পরিবারে বাড়তি উপার্জনও হয়। তাই কৃষিকাজ শুরুর আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া জরুরি। তা হলো-
মাটি প্রস্তুতকরণ: প্রথমে আবদ্ধ পাত্র, যেমন- ঢাকনা বিশিষ্ট বালতি, ড্রাম কিংবা বস্তা সংগ্রহ করতে হবে। তারপর রান্নাঘরের অবশিষ্ট সবজির খোসা আবদ্ধ পাত্র বা বস্তায় রাখতে হবে। তারপর কিছুটা মাটি সবজির খোসার ওপর ছড়িয়ে দিতে হবে। পরে পর্যায়ক্রমে লতাপাতা অথবা কলাগাছ কেটে মাটির ওপর ছড়িয়ে দিতে হবে। এভাবে লেয়ার করে ডিমের খোসা গুঁড়া, মাটি, শুকনো গোবর এবং কিছুটা পরিমাণ ছাই বা কাঠের গুঁড়া দিয়ে এক মাস বস্তার মুখ বন্ধ করে কিংবা বালতি বা ড্রাম ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে।
এক মাস পর সবকিছু পচে জৈব সার প্রস্তুত হবে। ওই জৈব সার রোদে ভালোমতো শুকিয়ে চালন বা চালন বিশিষ্ট পাত্রে খাঁটি জৈব সার বের করতে হবে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে ওই জৈব সারের সাথে কিছুটা পরিমাণ মাটি মিশিয়ে গাছ লাগালে ফলন ভালো হয়। যেমন- বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, শসা, ধুন্দল, লালশাক ইত্যাদি ফলন পরিবারের যেমন চাহিদা মেটায়; তেমনই অর্থ উপার্জনে সহায়তা করে।
ইনডোর প্লান্টের মাটি প্রস্তুত: ইনডোর প্লান্ট বলতে আমরা মানি প্লান্ট, লাকি ব্যাম্বো কিংবা স্নেক প্ল্যান্টকে বুঝি। তবে ইনডোর প্ল্যান্ট মাটিতে লাগালেই হবে না। মাটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। ফলস্বরূপ গাছ সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। যা মানুষের উপকারী বন্ধু হিসেবে কাজ করে।
মাটি প্রস্তুতের ক্ষেত্রে পরিমাণমতো মাটি, বালি, ছাই, কোকোপিট বা কাঠের গুঁড়া, ডিমের খোসা গুঁড়া ভালোমতো মেশাতে হবে। তবে অবশ্যই মাটি প্রস্তুতের উপকরণগুলো শুকনো এবং ঝুরঝুরে থাকতে হবে। মাটি প্রস্তুত করে ইনডোর প্ল্যান্ট লাগালে সময়ের যত্ন করা হয় এবং ইনডোর প্ল্যান্ট তার প্রয়োজনীয় খাদ্য লাভ করতে পারে।
গবাদিপশুর ক্ষেত্রে কৃষি: গবাদিপশু পালনের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন পারিবারিক চাহিদা মেটায়; অন্যদিকে অর্থের জোগান দেয়। উদাহরণস্বরূপ- গরুর দুধে প্রধানত ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি১২ থাকে। তাই গবাদিপশু পালনের ক্ষেত্রে মানুষকে উৎসাহ দিতে হবে।
মাছ চাষ: আমাদের দৈনন্দিন জীবন, পুষ্টি চাহিদা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মাছের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলস্বরূপ মাছ চাষে মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
ফলদ ও বনজ সম্পদ: কৃষি ক্ষেত্রে ফলদ ও বনজ সম্পদ মাটি রক্ষা, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মাটির উর্বরতা ও সংরক্ষণ: গাছের শেকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে। এতে প্রবল বৃষ্টি বা বাতাসে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি ক্ষয় হয় না।
জলবায়ু ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ: বনভূমি নিয়মিত বৃষ্টিপাতে সাহায্য করে- যা ফসলের সেচ ও বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা: গাছপালা ঝড়, সাইক্লোন ও অতিরিক্ত রোদের তীব্রতা কমিয়ে ফসল ও কৃষিজমি রক্ষা করে।
জ্বালানি ও উপকরণের জোগান: কৃষিকাজের নানা সরঞ্জাম তথা লাঙল, মই ও গরুর গাড়ি তৈরিতে কাঠ লাগে। রান্নার জন্য জ্বালানির চাহিদাও বন থেকে মেটে।
অর্থনৈতিক নিরাপত্তা: ফলমূল, মধু ও কাঠ বিক্রি করে কৃষকেরা অতিরিক্ত আয় করতে পারেন- যা তাদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এনে দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, কৃষিকাজ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বন্ধু। ফলে কৃষিকাজে সব শ্রেণির মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬