বক্স অফিসে দারুণ সাফল্যের পাশাপাশি এবার এক মানবিক উদ্যোগের জন্যও ব্যাপক আলোচনায় এসেছে মারাঠি সিনেমা ‘দেউল ব্যান্ড ২’। মাত্র ৮ থেকে ১০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত এই সিনেমা মুক্তির পর থেকেই ইতোমধ্যে শতকোটি রুপিরও বেশি আয় করে ফেলেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সিনেমার এই সাফল্যের লভ্যাংশের একটি অংশ এখন পৌঁছে যাচ্ছে মহারাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সন্তানদের কাছে।
গত ২১ মে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্যের এক নতুন নজির স্থাপন করেছে। তবে নির্মাতাদের কাছে শুধু ব্যবসায়িক এই সাফল্যই মুখ্য হয়ে ওঠেনি; সিনেমা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে অসহায় কৃষক পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর একটি বিশেষ উদ্যোগও নিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম পিঙ্কভিলাকে এই বিষয়টি জানিয়েছেন সিনেমাটির পরিচালক প্রবীণ তার্দে। তার ভাষ্যমতে, প্রযোজকেরা চেয়েছিলেন ‘দেউল ব্যান্ড ২’-এর সাফল্যের প্রকৃত সুফল যেন মহারাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছে যায়।
পরিচালক আরও জানান, সিনেমার নির্মাণ ব্যয় পুরোপুরি উঠে আসার পর অর্জিত মুনাফার একটি অংশ নিজেদের কাছে না রেখে সরাসরি কৃষক পরিবারের সন্তানদের সহায়তায় ব্যয় করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে প্রবীণ তার্দে বলেন, ধারদেনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন সংকটে জর্জরিত হয়ে যেসব কৃষক শেষ পর্যন্ত আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের সন্তানদের এই অর্থ দান করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, যাতে তারা আবারও নতুন করে পড়াশোনা শুরু করতে পারে।
তিনি জানান, মহারাষ্ট্রের খরাকবলিত অঞ্চলের শিশুদের মধ্যে ইতোমধ্যে এই অর্থ বিতরণও শুরু হয়ে গেছে। নির্মাতাদের প্রত্যাশা, এই সহায়তার মাধ্যমে আর্থিক সংকটে পতিত কৃষক পরিবারের সন্তানরা আবার স্কুলমুখী হতে পারবে এবং নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।
শুধু শিক্ষার ব্যয় বহন করাই নয়, সিনেমাটির মুনাফা থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ শিশুর দুই বেলার খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রযোজক কৈলাস ওয়ানির সার্বিক সহযোগিতায় আগামী বছরগুলোতেও এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক তার্দে।
২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেউল ব্যান্ড’ সিনেমার সিকুয়েল হিসেবে নির্মিত হয়েছে ‘দেউল ব্যান্ড ২’। দীর্ঘদিনের খরা, ঋণের বোঝা, ফসলহানি এবং সামাজিক অবহেলার কারণে কৃষকদের জীবনে নেমে আসা গভীর সংকটই এই সিনেমার মূল উপজীব্য বিষয়।
সিনেমাটির গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃষকদের আত্মহননের মতো কঠিন সিদ্ধান্তের নেপথ্যের বাস্তবতা। এর পাশাপাশি সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে একটি গভীর মানবিক বার্তাও—শুধু ধর্মীয় উপাসনালয়ে গিয়ে পূজা বা প্রার্থনা করাই প্রকৃত ধর্ম নয়, বরং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সহায়তা করাই হলো প্রকৃত মানবতা ও ধর্মের প্রকৃত রূপ। বক্স অফিসের সাফল্যকে অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজে লাগিয়ে ‘দেউল ব্যান্ড ২’ সিনেমাটি পর্দার গল্পের বাইরেও গড়ে তুলেছে এক ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত।
ডিসি/আপ্র/৩০/০৮/২০২৬