গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

মেনু

গুমের তদন্তে স্বাধীন ব্যবস্থা চেয়ে স্পিকারকে স্মারকলিপি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২২ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২২:০৬ এএম ২০২৬
গুমের তদন্তে স্বাধীন ব্যবস্থা চেয়ে স্পিকারকে স্মারকলিপি
ছবি

জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’ -ছবি সংগৃহীত গুমের তদন্তে স্বাধীন ব্যবস্থা চেয়ে স্পিকারকে স্মারকলিপি

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান, সত্য উদ্ঘাটন, বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আইন প্রণয়নের দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) স্মারকলিপিটি জমা দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত প্রায় দেড় দশকে রাজনৈতিক বিরোধী নেতা-কর্মী, মতপ্রকাশকারী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে গোপন স্থানে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কমিশনে জমা পড়া ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগের মধ্যে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে গুম হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং ২৮৭টি ঘটনা ‘নিখোঁজ ও মৃত’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

‘আয়ানাঘর’-এর প্রসঙ্গ তুলে স্মারকলিপিতে বলা হয়, নাগরিকদের চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে আইনের শাসন হতে পারে না।

২০২৪ সালের পরিবর্তনের পর গুম কমলেও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে ওঠা মৎস্যজীবী মিরাজ শেখের গুমের সাম্প্রতিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল তুলে নেওয়ার পর তার সন্ধান না মেলায় ১২ জুলাই হাইকোর্ট তাকে হাজির করার নির্দেশ দেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এটিকে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রথম পরিচিত গুমের অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বর্তমানে সংসদে প্রক্রিয়াধীন ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জাতীয় কমিটি বলেছে, গুমের অভিযোগের তদন্তভার পুনরায় পুলিশের ওপর রাখা হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হবে। যেসব বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদেরই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে বিচার নিরপেক্ষ হতে পারে না।

গুম কোনো ব্যাপক বা পদ্ধতিগত অপরাধ কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়লে কোন পর্যায়ে এবং কীভাবে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণেরও দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য অবিলম্বে শক্তিশালী, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডসম্মত এবং ভুক্তভোগীবান্ধব আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

একই সঙ্গে ২০২৫ সালের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের যেসব বিধান ভুক্তভোগীদের অধিকতর সুরক্ষা, প্রতিকার ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করেছিল, সেগুলো নতুন আইনে অক্ষুণ্ন রাখা এবং প্রয়োজনে আরো শক্তিশালী করার দাবি জানানো হয়।

গুমের অভিযোগের তদন্ত কোনো পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা বা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এককভাবে না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, বিশেষ করে যখন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর বিরুদ্ধে। এ জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও কার্যকর ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিশন বা স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা গঠনের দাবি জানানো হয়।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং দায়ীদের পদমর্যাদা বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভিত্তিতে কোনো দায়মুক্তি না দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

গত ১৫ বছরের সব গুমের ঘটনা পুনরায় যাচাই করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান নির্ধারণ, জীবিতদের উদ্ধার এবং মৃতদের পরিবারের কাছে মরদেহের সন্ধান নিশ্চিত করে যথাযথ মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।

‘আয়ানাঘর’সহ সব গোপন আটককেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, আলামত সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নির্দেশদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। গুম থেকে ফিরে আসা প্রত্যেক ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, সাক্ষ্যগ্রহণের সুরক্ষা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সহায়তার নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

মিরাজ শেখের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করে তার অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।

গুম প্রতিরোধ আইনে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়ের বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, এতে নির্দেশদাতারা দায় এড়াতে পারবেন না। একই সঙ্গে আইন পাসের আগে ভুক্তভোগী পরিবার, মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে স্বচ্ছ ও পর্যাপ্ত পরামর্শের দাবি জানানো হয়।

ব্যাপক বা পদ্ধতিগত প্রকৃতির গুমের ক্ষেত্রে তদন্তের শুরু থেকেই এখতিয়ার নির্ধারণের সুস্পষ্ট আইনগত পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আইনে স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি কোনো সাধারণ ব্যক্তি, অপরাধী চক্র বা রাষ্ট্রবহির্ভূত পক্ষের মাধ্যমে সংঘটিত গুম ও আটকও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সময়ে অপব্যবহৃত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পুনঃপর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
সানা/আপ্র/৩০/৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

গুম প্রতিরোধ বিল সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত
৩০ আগস্ট ২০২৬

গুম প্রতিরোধ বিল সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাতীয় সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরা...

তৃতীয় টার্মিনাল চালুতে ৯০২ কোটি টাকা লাগবে
৩০ আগস্ট ২০২৬

তৃতীয় টার্মিনাল চালুতে ৯০২ কোটি টাকা লাগবে

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে...

দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে তলব
৩০ আগস্ট ২০২৬

দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক সেনাপ...

কাঁদতে কাঁদতে প্রিয় রনজিলা ম্যাডামকে শেষ বিদায়
৩০ আগস্ট ২০২৬

কাঁদতে কাঁদতে প্রিয় রনজিলা ম্যাডামকে শেষ বিদায়

জীবনের প্রায় পুরোটা সময় বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে কাটিয়েছেন রনজিলা পারভী...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে রোডম্যাপ চান আইনমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মন্ত্রীর চাওয়ার সাথে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে