ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) দিয়েই দুই বছর আগে খেলোয়াড়ি জীবনকে বিদায় জানিয়েছিলেন ডোয়াইন ব্রাভো। এবার তার সেই টুর্নামেন্ট থেকেই অবসরে যাচ্ছে তার পরিচিত জার্সিটিও। সাবেক এই অলরাউন্ডারের প্রতি বিশেষ সম্মান জানিয়ে তার ৪৭ নম্বর জার্সি চিরতরে তুলে রাখছে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স।
ফুটবল কিংবা অন্যান্য খেলার কিংবদন্তিদের প্রতি সম্মাননা হিসেবে জার্সি অবসরে পাঠানোর রীতি বিভিন্ন খেলায় প্রচলিত থাকলেও, ক্রিকেটে এই ধরনের ঘটনা এখনও বেশ বিরল।
সিপিএলের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো ক্রিকেটারের জার্সি এভাবে অবসরে পাঠানো হলো। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি, সিপিএল এবং সামগ্রিকভাবে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ক্রিকেটে ব্রাভোর অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে এই বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
শনিবার জ্যামাইকা কিংসমেনের বিপক্ষে ত্রিনবাগোর ম্যাচের আগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ব্রাভোর প্রতি এই সম্মানের কথা তুলে ধরেন নাইট রাইডার্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ভেঙ্কি মাইশোর।
তিনি বলেন, নাইট রাইডার্স ও সিপিএলে ডোয়াইন ব্রাভোর অবদান পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। ৪৭ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠানোর মাধ্যমে তার কীর্তি চিরকালের জন্য এই ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ হয়ে থাকবে বলে নিশ্চিত করছেন তারা। সিপিএলের ইতিহাসে এই বিরল সম্মান পাওয়ার জন্য ব্রাভোর চেয়ে যোগ্য আর কেউ হতে পারতেন না বলেও মন্তব্য করেন মাইশোর।
পরিসংখ্যান বলছে, সিপিএলের ১১ মৌসুমের মধ্যে ৯টিতেই ত্রিনবাগোর হয়ে খেলেছেন ব্রাভো, যার মধ্যে শিরোপা জিতেছেন পাঁচবার। এর মধ্যে দুবার তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন দলের অধিনায়ক হিসেবে। বর্তমানে দলটির প্রধান কোচের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি, আর নাইট রাইডার্স গ্রুপের সঙ্গেও তার সম্পর্ক এখনও যথেষ্ট নিবিড়।
ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রকাশিত একটি বিশেষ ভিডিওতে ব্রাভোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দলের বর্তমান অধিনায়ক নিকোলাস পুরানও। তিনি বলেন, অনুপ্রেরণা ও রোল মডেল হয়ে ওঠার জন্য ব্রাভোকে ধন্যবাদ জানান তিনি, পাশাপাশি বড় ভাইয়ের মতো পাশে থাকা এবং মাঝেমধ্যে পিতৃতুল্য ভূমিকা পালন করার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, নিজের জীবনে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকার জন্য। পরবর্তী অনেক প্রজন্মের ক্রিকেটারের পথ সুগম করে দেওয়ার জন্য ব্রাভোকে বিশেষভাবে কৃতিত্ব দিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ও সিপিএলের আরেক কিংবদন্তি সুনিল নারাইনও।
তার ভাষ্যমতে, অনেক তরুণ ক্রিকেটারের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছেন ব্রাভো, আর নিজের যত্ন নেওয়ার পদ্ধতি, তার প্রাণশক্তি এবং সবকিছুতে সবসময় জয়ের যে আকাঙ্ক্ষা-তা সত্যিই প্রেরণাদায়ী বলে মনে করেন তিনি।
খেলার মাঠে ব্রাভোর দীর্ঘদিনের সতীর্থ এবং মাঠের বাইরে প্রিয় বন্ধু কাইরন পোলার্ডও তুলে ধরেছেন তাদের সম্পর্কের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্যক্তিগত জীবনে ব্রাভোর অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি তিনি স্মরণ করেন, একসঙ্গে তারা কীভাবে একটি অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে গড়ে উঠেছিলেন।
পোলার্ডের ভাষায়, চ্যাম্পিয়নশিপ ও ম্যাচ জেতার পাশাপাশি এমন একটি পরিবেশ তৈরির কথাও সবসময় বলতেন ব্রাভো, যেখানে সবাই ক্রিকেটকে সত্যিকার অর্থে উপভোগ করতে পারবে।
ডিসি/আপ্র/৩০/০৮/২০২৬