ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি, পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চেয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
রোববার (৩০ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী বলেন, কে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নিয়েছেন এবং কার সন্তান ওই সনদের সুবিধা নিয়ে চাকরি পেয়েছেন-সে তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর থেকে জবাব আসতে শুরু করেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে কোনো গেজেটধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন-এমন অভিযোগ এলে উপকমিটির মাধ্যমে তদন্ত ও শুনানি করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আহমেদ আযম খান জানান, নতুন করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে যাচাই-বাছাই চলছে।
তিনি বলেন, গত ১৮ বছরে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে শুধু বিরোধী দলের রাজনীতি করার কারণে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
গুম-হত্যার শিকারদের জন্য পৃথক অধিদপ্তর: এদিকে গত ১৭ বছরে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের জন্য পৃথক একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য ইতোমধ্যে ‘জুলাই অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের জন্য আলাদা আরেকটি অধিদপ্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যেসব নেতাকর্মী গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩০/৮/২০২৬