ঠাকুরগাঁওয়ে ‘ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ১১৭টিতে।
সদর উপজেলার পূর্ব নারগুন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সোমবার (১৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মুহম্মদ শহীদ উজ জামানকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মাহবুবুল হক পাটোয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অনুমোদনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সাময়িক অনুমতির মেয়াদ হবে সাত বছর। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অথবা ভাড়া করা কমপক্ষে ২৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের ভবন থাকতে হবে। থাকতে হবে ন্যূনতম তিনটি অনুষদ এবং এসব অনুষদের অধীনে কমপক্ষে ছয়টি বিভাগ।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে সংরক্ষিত তহবিলে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা জমা রাখতে হবে। সব মিলিয়ে অনুমোদনের সঙ্গে ৩১টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শুধু ডিগ্রি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, আধুনিক গবেষণা এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টি কাজ করবে। তাদের মূল দর্শন হবে—শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবন থেকে কর্মসংস্থান।
বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া শুরু হয় ১৯৯২ সালে। এরপর বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বাইরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ঠাকুরগাঁওয়ে ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং নতুন একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
দেশের উচ্চশিক্ষার সুযোগ ঢাকার বাইরে সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। তবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর আগে অনুমোদনের শর্তগুলো যথাযথভাবে পূরণ করাই হবে বিশ্ববিদ্যালয়টির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
সানা/আপ্র/১৯/৮/২০২৬