গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

রোহিঙ্গারা রোহিঙ্গাই, বাঙালি নয়: মিয়ানমারকে ঢাকা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:০৮ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪০ এএম ২০২৬
রোহিঙ্গারা রোহিঙ্গাই, বাঙালি নয়: মিয়ানমারকে ঢাকা
ছবি

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ -ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা। মিয়ানমারের দেওয়া পরিসংখ্যানের অনেকটাই ভুল তথ্যনির্ভর বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ বলেছে, রোহিঙ্গারা বাঙালি নয়; তাদের নিজস্ব নৃতাত্ত্বিক পরিচয় রয়েছে। এমনকি মিয়ানমার সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তব্য ও নথিতেও অতীতে এ পরিচয়ের স্বীকৃতি পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াউ সোয়ে মোয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান। বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করে, ‘রোহিঙ্গা’ নামে কোনো জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারে নেই এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষ মূলত ‘বাঙালি’। দেশটির দাবি, বাংলাদেশের দেওয়া আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

মিয়ানমারের ওই বিবৃতি অনুযায়ী, চার হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে না বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

মিয়ানমারের বক্তব্যের জবাবে বাংলাদেশের মহাপরিচালক বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের বিবৃতিতে দেওয়া তথ্যসহ অনেক বিষয় ‘ভুল পরিসংখ্যাননির্ভর’। রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যার প্রতিফলন জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত নিবন্ধন প্রক্রিয়াতেই রয়েছে।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় মতৈক্যের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া রোহিঙ্গা শিশু এবং ২০১৭ সালের পর বিভিন্ন সময়ে নতুন করে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের তথ্যও যাচাইয়ের আওতায় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করছে এবং আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তথ্য যথাসময়ে মিয়ানমার সরকারকে দেওয়া হবে। যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন যুক্ত হওয়া তথ্যও বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ নেপিদোতে মিয়ানমার সরকারের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত উ কিয়াউ সোয়ে মোয়ে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর লক্ষ্যে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের অঙ্গীকারের কথাও তিনি জানিয়েছেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমারের বিবৃতিতে সংখ্যার ক্ষেত্রে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে, যার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একমত নয়। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তিনি তার সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

মিয়ানমারের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার ধীরগতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চায় প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত সম্পন্ন করা হোক। একই সঙ্গে মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ যে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, সে কথাও মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গারা নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে নিজ দেশে ফিরে যাক। তারা নিজেদের পরিচয় নিয়েই মিয়ানমারে ফিরে যাবে।

নয় বছরেও শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন
২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়ন ও সহিংসতার মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। কয়েক মাসের মধ্যে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই সেখানে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছিল। বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৩টি শিবিরে নিবন্ধিত ও আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি; নতুন করে আসা ব্যক্তিদের ধরলে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গার মোট সংখ্যা আরও বেশি।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে বাংলাদেশ শুরু থেকেই তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। ২০১৭ সালের শেষ দিকে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় এবং পরের বছর দুই দেশের মধ্যে প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত চুক্তি হয়। পরে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দুই দফায় প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আস্থার সংকটের কারণে কোনো রোহিঙ্গা ফেরত যায়নি।

এরপর করোনাভাইরাস মহামারি, ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যায়। চীনের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগেও কয়েক দফা প্রত্যাবাসনের চেষ্টা সফল হয়নি।

জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের যৌথ নিবন্ধন অনুযায়ী ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা নিবন্ধিত ছিল। ২০২৪ সালে মিয়ানমারের নতুন করে সংঘাতের কারণে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। জাতিসংঘ বলছে, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও চলতি বছরের শুরুতে স্পষ্ট করে বলেছে, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী এবং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা তাদের নিজস্ব পরিচয় অস্বীকারের শামিল।

সাম্প্রতিক বিবৃতিতে মিয়ানমার তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করার কথা বললেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু না করার অবস্থান জানিয়েছে। ফলে যাচাই-বাছাইয়ে অগ্রগতি দেখা গেলেও বাস্তবে প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। 
সানা/আপ্র/১৯/৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার
১৪ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ঘোষিত দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এলজিপির দাম নির্ধারণে আগামী ২৯ অক্ট...

এ মুহূর্তে অপারেশন ক্লিনহার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৪ অক্টোবর ২০২৬

এ মুহূর্তে অপারেশন ক্লিনহার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর মতো কোনো অভিয...

শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
১৪ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি...

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
১৪ অক্টোবর ২০২৬

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল ক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 18 ঘন্টা আগে