একেএম ফজলুল হক: ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী সাদমান ইসলাম। ১ হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২৭১ নম্বর পেয়ে তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন, যা এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
নিয়মিত পড়াশোনা, অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ এবং খেলাধুলার প্রতি প্রবল আগ্রহ—এই তিনের সমন্বয়েই সাফল্যের গল্প গড়েছেন সাদমান। কখনো টানা পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা, আবার কখনো ব্যাট হাতে ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠা—এভাবেই বেড়ে উঠেছে তার শিক্ষাজীবন।
জানা গেছে, সাদমান নিয়মিত স্কুলের ক্লাস করতেন এবং শিক্ষকদের দেওয়া পাঠ প্রতিদিন শেষ করার চেষ্টা করতেন। মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগও ছিল সীমিত। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও ইংরেজি অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ তজল্লী আজাদ বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা বরাবরের মতোই ভালো ফল করেছে। ১ হাজার ২৭১ নম্বর পেয়ে সাদমান ইসলাম বোর্ডে প্রথম হয়েছে। ১ হাজার ২৬৯ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে রোজবাহ উদ্দিন রোহান। আরো অনেক শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় রয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “এসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। দক্ষ শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ সাফল্য এসেছে।”
সাদমান জানান, দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করার নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য তার ছিল না। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করার চেষ্টা করতাম। আমি মূলত খেলাধুলা ভালোবাসি। বিভিন্ন টুর্নামেন্টেও অংশ নিয়েছি। এখন আমার স্বপ্ন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া।”
সাদমানের গ্রামের বাড়ি বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলা সদরের ঝালকাঠি গ্রামে। তার একটি বোন রয়েছে, সে বর্তমানে চট্টগ্রামের বাওয়া স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে।
ছেলের সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা শাহিদুন্নিসা বলেন, “সাদমান পঞ্চম শ্রেণি থেকেই কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার রোল ছিল এক। ওর বাবা চাকরির কারণে কুমিল্লায় থাকতেন, তাই পড়াশোনা ও দেখাশোনার প্রায় পুরো দায়িত্ব আমার ওপরই ছিল।”
তিনি আরো বলেন, “ও শুধু পড়াশোনাই করত না, খেলাধুলাও খুব পছন্দ করত। কখনো পাঁচ-ছয়-সাত ঘণ্টা পড়ত, আবার উঠে ক্রিকেট খেলতে চলে যেত। ও খুব চঞ্চল ছিল, কিন্তু সবকিছুতেই মনোযোগী ছিল।”
সাদমানের বাবা ফখরুল ইসলাম কুমিল্লায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। ছেলের বোর্ডসেরা হওয়ার খবর পেয়ে ফল প্রকাশের দিন রাতেই তিনি কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে ছুটে আসেন।
সাদমানের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক এবং সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। এখন বোর্ডসেরা এই শিক্ষার্থীর লক্ষ্য—বুয়েটে ভর্তি হয়ে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করা।
সানা/আপ্র/১৪/৮/২০২৬