আওয়ামী লীগের নেত্রী ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১০টা ২৭ মিনিটে ঢাকার কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
দীপু মনির বড় ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তৌফীক নাওয়াজ। সোমবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তৌফীক নাওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্বে থাকা আপেল খকশি।
২০১৯ সালে স্ট্রোক করার পর থেকে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। গত ২৬ এপ্রিল হুইলচেয়ারে করে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কারাবন্দি স্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে দেখা করেন তিনি। ওই সময় স্বজনদের সহায়তায় হুইলচেয়ারে বসেই ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করেন তৌফীক নাওয়াজ।
পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ ধ্রুপদি সংগীতেরও চর্চা করতেন। আইন পেশার পাশাপাশি সংগীতের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ ছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একাধিক মামলায় আসামি হয়ে দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। স্বামীর অসুস্থতার কারণে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার জন্য গত ২৭ মাসে সাত দিন আবেদন করেছিলেন তার মেয়ে তানি দীপাবলী নাওয়াজ। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে করা ওই আবেদনে সাড়া মেলেনি।
তৌফীক নাওয়াজের মৃত্যুর পর এবার দীপু মনিকে প্যারোলে মুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম। তিনি বলেন, বুধবার সকালে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে এ আবেদন করা হবে।
এদিকে তৌফীক নাওয়াজের জানাজা ও দাফন কোথায় এবং কখন হবে, তা বুধবার দুপুরের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জে আর ওয়াদুদ টিপু।
দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির আবেদন
স্বামী তৌফীক নাওয়াজের মৃত্যুর পর কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনিকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হবে। বুধবার সকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ আবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তার আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম।
চব্বিশের আন্দোলনের পর গ্রেপ্তার হওয়া দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক আছেন।
দীপু মনির স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে শেষবারের মতো দেখতে ও জানাজা-দাফনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
সানা/আপ্র/১৯/৮/২০২৬