ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি, তারল্য সংকট এবং নতুন এলসি খুলতে না পারার কারণে শিল্পগোষ্ঠী এস. আলম গ্রুপের চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত ১১টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এসব কারখানায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে।
কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক বিভাগের কিছু কর্মী এখনো দায়িত্বে রয়েছেন।
এস. আলম গ্রুপের বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে— এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস. আলম সিমেন্ট, এস. আলম অয়েল, এস. আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস. আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, এস. আলম স্টিল, এস. আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, এস. আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড এবং পশুখাদ্য উৎপাদনকারী একটি কারখানা।
তবে বাঁশখালীর কয়লাভিত্তিক এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েনি এবং সেটি চালু থাকবে বলে জানা গেছে।
কারখানা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নোটিশ বোর্ডে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা টাঙিয়ে তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, সিদ্ধান্তটি ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষ কর্মরতদের নিজ দায়িত্বে ফিরে যেতে বলেছে।’
প্রতিষ্ঠানটির এক প্রকৌশলী হাসমত আলী জানান, গত দুই বছর ধরে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলছিল না। তবু কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছিল। সর্বশেষ সাড়ে চার হাজারের মতো কর্মী কর্মরত ছিলেন এবং তাদের প্রাপ্য বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই গ্রুপটির ব্যবসা ও ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব জব্দ থাকায় এবং নতুন করে এলসি খুলতে না পারায় কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হয়নি। ফলে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া আর সম্ভব হচ্ছিল না।
শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, আগে এসব কারখানায় প্রায় আট হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করতেন। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পর ধাপে ধাপে কয়েক শ করে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। সর্বশেষ অবশিষ্ট কর্মীদেরও অব্যাহতি দেওয়ার মাধ্যমে কার্যত পুরো শিল্প কমপ্লেক্সের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।
কারখানা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ছাঁটাইয়ের খবরে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এস. আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে আর্থিক ও ব্যাংকিং পরিস্থিতির উন্নতি হলে কারখানাগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হবে এবং তখন সাবেক কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে ফেরানো হতে পারে।
সানা/আপ্র/১/৮/২০২৬