রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে প্রেশার কুকারের ভেতরে তৈরি একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে চায়ের দোকানের সামনে পড়ে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বোমাটি উদ্ধার করা হয়। পরে শুক্রবার ভোরে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, চারাবাগ এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে বোমাটি উদ্ধারের পর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি নিষ্ক্রিয় করে।
ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের এক কর্মকর্তা জানান, প্রেশার কুকারের ভেতরে বিপুলসংখ্যক বিয়ারিংয়ের বল ও রাসায়নিক ব্যবহার করে বোমাটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি বেশ শক্তিশালী ছিল।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে চারাবাগ এলাকার ওই চায়ের দোকানে এক ব্যক্তি ব্যাগ হাতে এসে ৫০০ টাকার নোট ভাঙানোর কথা বলেন। দোকানদার ভাঙতি টাকা না থাকায় দিতে পারেননি। পরে ওই ব্যক্তি কিছুক্ষণের জন্য ব্যাগটি দোকানের সামনে রাখার কথা বলে চলে যান। এরপর এক ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও তিনি ফিরে না আসায় দোকানে থাকা লোকজনের সন্দেহ হয়।
পরে ব্যাগ খুলে তাঁরা ভেতরে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো একটি প্রেশার কুকার দেখতে পান। বিষয়টি জানানো হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলে।
বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের ওই কর্মকর্তা জানান, রাত প্রায় ১টার দিকে তাঁদের কাছে বোমা নিষ্ক্রিয় করার জন্য খবর আসে। পরে রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরা বোমাটি উদ্ধার করেন। শুক্রবার ভোরে পাশের একটি খালি মাঠে গর্ত খুঁড়ে এবং চারপাশে বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি ধ্বংস করা হয়।
তিনি জানান, নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের পরও কম্পনের কারণে একটি সীমানাপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোমাটিতে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল, তা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রেশার কুকারের ভেতরে বিস্ফোরকের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক বিয়ারিংয়ের বল ব্যবহার করা হয়েছিল, যা বিস্ফোরণের সময় ক্ষয়ক্ষতি বাড়াতে পারে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি পাইপ বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বোমাটি পরিত্যক্ত একটি ছাতার মধ্যে রাখা ছিল। সেদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রা থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরে পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ওই বিস্ফোরকটি একটি শক্তিশালী আইইডি ছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট জানিয়েছিল, ছাতার সঙ্গে এমনভাবে বোমাটি সংযুক্ত করা হয়েছিল, যাতে ছাতা খুললেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারত।
তবে পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, উল্টোরথ যাত্রার সঙ্গে ওই বোমা উদ্ধারের ঘটনার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি; এটি কাকতালীয়ভাবে ওই দিন পাওয়া গেছে।
সানা/আপ্র/৩১/৭/২০২৬