ম্যাচের শুরুর দিকেই ১০ জনের দলে পরিণত হলো ম্যানচেস্টার সিটি। ওই ধাক্কার পর আক্রমণে আর তাদের স্বরূপে দেখা গেল না। তবে, বিরতির আগে-পরে দুই দফায় ভাগ্য তাদের সহায় হলো। আর এরপর, দারুণ এক গোলে ব্যবধান গড়ে দিলেন আর্লিং হলান্ড।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে জয়ের ধারা ধরে রাখল এন্টসো মারেস্কার দল। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রোববার মৌসুমের প্রথম ম্যানচেস্টার ডার্বি ১-০ গোলে জিতেছে সিটি।
বল দখলে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি আক্রমণেও আধিপত্য করে ইউনাইটেড। কিন্তু আরও একবার তাদের ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা ভোগাল খুব; গোলের জন্য ১৬ শট নিয়ে কেবল তিনটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। আর সিটির ছয় শটের দুটি লক্ষ্যে থাকে।
চার ম্যাচে শতভাগ সাফল্যে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে সিটি। তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দারুণ জয় পেলেও, ঘরোয়া লিগে আবার হারল ইউনাইটেড। এখানে চার রাউন্ডে একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১৩ নম্বরে আছে তারা।
ম্যাচ শুরু হতেই ডার্বির উত্তাপ বাড়তে থাকে। ৩০ সেকেন্ডেই দেখা মেলে প্রথম ফ্রি কিকের; প্রতিপক্ষের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করেন ইউনাইটেডের দিয়োগো দালোত। দ্বিতীয় মিনিটে রায়ান শের্কিকে কড়া ফাউল করেন ইউনাইটেড ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুইয়ার।
প্রথম ২০ মিনিটে দুই পাশে মোট সাতটি ফাউল হয়। এরপরই প্রথমার্ধের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটে। ২৩তম মিনিটে ফিল ফোডেনের থেকে বল দখলের লড়াইয়ে তাকে চ্যালেঞ্জ জানান ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেস। ফোডেন পড়ে গেলে তাকে আস্তে লাথিও মারেন ইউনাইটেড অধিনায়ক, তাতেই মেজাজ হারিয়ে পড়ে থাকা অবস্থাতেই প্রতিপক্ষের পেটে লাথি মেরে বসেন সিটি মিডফিল্ডার ফোডেন এবং সরাসরি তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায় সিটির খেলোয়াড়রা, ডাগআউটে ক্ষোভ ঝারেন কোচ এন্টসো মারেস্কা। প্রতিপক্ষে একজন কম থাকার সুযোগ থাকলেও, প্রথমার্ধে তা কাজে লাগাতে পারেনি ইউনাইটেড।
৪৫তম দারুণ একটা সুযোগ অবশ্য তৈরি করে তারা। কিন্তু ২৫ গজ দূর থেকে মার্কাস রাশফোর্ডের বাঁকানো ফ্রি কিক জানলুইজি দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করলেও, পোস্ট এড়াতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলেরই খেলায় ধার বাড়ে।
৫২তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো ইউনাইটেড; কিন্তু দুর্ভাগ্য আবারও তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, কবি মেইনুর দূরপাল্লার শট পোস্টে লাগে। এরপরই ইউনাইটেডকে হতবাক করে দিয়ে, লক্ষ্যে প্রথম শট নিয়েই গোল আদায় করে নেয় সিটি।
বাঁ দিক থেকে সতীর্থের ক্রস প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে লেগে বল দূরের পোস্টে পান হলান্ড এবং দুরূহ কোণ থেকে নিখুঁত শটে দলকে এগিয়ে নেন নরওয়ে তারকা। প্রথমে অবশ্য অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি, তবে ভিএআরের সাহায্যে পরে দেন গোলের সিদ্ধান্ত।
প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন ও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচে জালের দেখা পেলেন হলান্ড।
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে হলান্ডের এটা অষ্টম গোল। এবারের লিগে তার গোল হলো চারটি, চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে ছয়টি। কিছুদিন আগে চেলসি থেকে সিটিতে যোগ দেওয়া এন্সো ফের্নান্দেস ৬৯তম মিনিটে গোল পেতে পারতেন। তবে তার জোরাল শট ঝাঁপিয়ে আটকান সানা লমেন্স। বল তার হাতে লেগে পোস্টে বাধা পায়। চার মিনিট পর এমবুমোর হেডও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ম্যাচ তখন যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে, সেই মুহূর্তে আবার সুবর্ণ সুযোগ পান এমবুমো, ব্রুনো ফের্নান্দেসের বাড়ানো বল জায়গা বানিয়ে দারুণ শটও নেন তিনি; কিন্তু দারুণ এক সেভ করে সিটির জয় নিশ্চিত করেন দোন্নারুম্মা।
ডিসি/আপ্র/১৪/৯/২০২৬