এস এ খান শিল্টু, মেহেরপুর: মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-লেনদেন চক্রের বিরুদ্ধে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ গাংনী উপজেলার গাড়াডোব এলাকা থেকে আল সাহাব (২২) নামে আরো এক অনলাইন জুয়াড়িকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত অন্তত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধারাবাহিক অভিযানে জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী–এর নেতৃত্বে গাংনী থানার গাড়াডোব এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আল সাহাবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাড়াডোব পুকুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ সময় তার কাছ থেকে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এ-৫৪ ফাইভ-জি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
ডিবি পুলিশের দাবি, প্রাথমিকভাবে মোবাইল ফোনটি বিশ্লেষণ করে অনলাইন জুয়ার চ্যানেলে লেনদেন এবং মালয়েশিয়ার মুদ্রায় অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তার ব্যবহৃত চারটি ই-মেইলে ১৩টি অনলাইন জুয়ার আইডির সন্ধান মিলেছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, এর আগে গত শুক্রবার ও রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও অংশগ্রহণের অভিযোগে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব ঘটনায় মেহেরপুর সদর ও গাংনী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর আওতায় পৃথক মামলা হয়েছে।
গত ৮ মে মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রাম থেকে অনলাইন জুয়ার শীর্ষ এজেন্ট হিসেবে পরিচিত আক্তারুজ্জামান ফিলসনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের দুটি মামলা ও একটি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে।
এরপর ১২ মে মুজিবনগরের গোপালপুর এলাকা থেকে মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
১৮ মে মেহেরপুর শহরের চাঁদবিল ঈদগাহপাড়া এলাকা থেকে সুয়াইব আহম্মেদ সৌমিককে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স জব্দ করা হয়।
এছাড়া ৭ ও ৮ মে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাংনীর গাড়াডোব গ্রামের রোহান আলী ওরফে রাকেশ, ফয়সাল আহমেদ এবং সদর উপজেলার রনি মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি স্মার্টফোন, কয়েকটি সিমকার্ড এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নগদ ১৭ হাজার ৪৪০ টাকা জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে ১৬ মে রাতে পৃথক অভিযানে রাফসান জনি রিপন (৩২), ফাহাদ হাসান জুনায়েদ, বায়েজিদ ডালিম ও রকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একাধিক স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা ফোনগুলোতে অনলাইন জুয়ার একাধিক অ্যাকাউন্ট, ই-মেইল আইডি এবং অবৈধ ডলার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
ডিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের ও অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া পরিচালনা, জুয়ার লেনদেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং ও ‘বিন্যান্স’ অ্যাপের মাধ্যমে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের কথা স্বীকার করেছেন।
সম্প্রতি মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সক্রিয় অভিযান শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সানা/আপ্র/২৩/৫/২০২৬