মাহাবুব রহমান বিপ্লব, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, বদরগঞ্জের খোলাহাটি কুটিরশিল্প ও বাণিজ্য মেলার আড়ালে চলা লটারি কার্যক্রম বন্ধ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অভিশংসনের দাবিও জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বালুয়াভাটা এলাকায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি চীন সফর শেষে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন তিনি।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে পহেলা জুনের পর দেশজুড়ে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির ঘোষণা দেওয়া হলেও তার নির্বাচনী এলাকার খোলাহাটি কুটিরশিল্প ও বাণিজ্য মেলার আড়ালে প্রকাশ্যে লটারির নামে জুয়া চলছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বাণিজ্য উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন। এরপরও লটারি বন্ধ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে জনগণের প্রত্যাশা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা না হলে সেই পদও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। এ কারণে তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অভিশংসনের দাবি জানান।
মতবিনিময় সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, গণভোট, রাষ্ট্র পরিচালনা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এবং জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে বক্তব্য দেন আজহারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জনগণ যেমন ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন করার অধিকার রাখে, তেমনি গণভোটের মাধ্যমে দেওয়া রায়ও রাষ্ট্রের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতকে উপেক্ষা করা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না। গণভোটে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মানুষের মধ্যে নতুন করে হতাশা তৈরি হচ্ছে। তার অভিযোগ, অতীত সরকারের মতো বিরোধী মত দমন ও এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জনগণই এর জবাব দেবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে জনগণের আস্থা অর্জনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন নয়, বরং সংলাপ ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান করতে হবে।
বাংলাদেশকে কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত এবং কর্তৃত্ববাদী মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সানা/আপ্র/২৪/৭/২০২৬