গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছে বঙ্গভবন।
রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. সরওয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হওয়ায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেছেন, তিনি হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর হৃদ্যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগ শনাক্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান।
পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন।’
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন।
পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি আরও লিখেছেন, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। সেই সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চান এবং আদালতের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে এবং নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এর ফলে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে বুধবার থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতি নিজেও অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিকেলে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি অসুস্থ, তাই এটি হয়ে গেছে।”
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
সানা/আপ্র/২৪/৭/২০২৬