একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি মাছের বাজারে এসেছে বিরল আকৃতির ১৫৫ কেজি ওজনের একটি দৈত্যাকৃতির কৈ কোরাল। বিশাল এই মাছটি ঘিরে ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাজারে আনার আগেই মাছটির ৪০ কেজি অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। বিক্রেতাদের আশা, নির্ধারিত দিনের আগেই পুরো মাছ বিক্রি হয়ে যাবে।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া একটি জাহাজের জালে ধরা পড়ে বিশালাকৃতির এই কৈ কোরাল। অতিরিক্ত ওজনের কারণে জাহাজ থেকে ক্রেনের সাহায্যে মাছটি একটি পিকআপ ভ্যানে তোলা হয়। পরে সেটি চট্টগ্রাম মহানগরের কাজীর দেউড়ি মাছের বাজারে আনা হয়। সেখানে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল পিকআপ থেকে নামিয়ে দোকানে তোলে মাছটি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ছয় ফুট লম্বা ধূসর-কালচে রঙের মাছটির শরীরজুড়ে বড় বড় আঁশ, চওড়া মাথা, বিশাল মুখ, মোটা ঠোঁট ও শক্তিশালী লেজ। ব্যতিক্রমী গড়নের এই মাছ দেখতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাজারে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। কেউ বিস্ময়ে মাছটির বিশালত্ব দেখছেন, আবার কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্মৃতি ধরে রাখছেন। মাছটির সতেজতা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
মাছটি দেখতে আসা হোসেন নামে এক দর্শনার্থী বলেন, **“এত বড় কৈ কোরাল জীবনে কখনও দেখিনি। খবর পেয়ে শুধু একবার দেখার জন্যই বাজারে এসেছি।”**
মাছটির বিক্রেতা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতি কেজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা। মোট ওজন ১৫৫ কেজি হলেও মাথার শক্ত অংশ, ফুলকা, নাড়িভুঁড়ি, পাখনা ও কিছু হাড় বাদ দেওয়ার পর বিক্রিযোগ্য ওজন কিছুটা কমে যাবে।
তিনি আরও জানান, আগামী শনিবার মাছটি কেটে বিক্রি করা হবে। তবে এরই মধ্যে ৪০ কেজি মাছ অগ্রিম বিক্রি হয়েছে এবং আরও ক্রেতার কাছ থেকে অগ্রিম অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। তার আশা, শনিবারের আগেই পুরো মাছ বিক্রি হয়ে যাবে।
বাজারের অন্যান্য মাছ বিক্রেতারা বলেন, এত বড় আকৃতির কৈ কোরাল খুব কমই ধরা পড়ে। তাই মাছটি বাজারে আসার পর থেকেই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেকেই শুধু বিরল এই বিশাল মাছটি একনজর দেখতেই বাজারে ভিড় করছেন।
সানা/আপ্র/২৪/৭/২০২৬