রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে চলমান জল্পনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তিনি শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন। তবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি সূত্রের দাবি, তিনি মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়টি অবহিত করেছেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শুক্রবার আসতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ফোন ও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের কাছেও মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তার আরও পরে দেশে ফেরার কথা ছিল।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ নির্বাচন শেষে দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন।
সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ”আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।”
পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছিলেন, নতুন সরকার চাইলে বা অনুরোধ করলে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। কেন এমন সিদ্ধান্তের কথা ভাবছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ”আমার ভালো লাগে না।”
সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন নতুন করে আলোচনায় আসে।
বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও স্পিকার বিদেশে থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
যদিও সংবিধানে পদত্যাগের সময় স্পিকারের দেশে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা নেই, তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতেই সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্পিকারকে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
সানা/আপ্র/২৪/৭/২০২৬