ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদী বলেন, প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িত। গত আড়াই মাসে সরকার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারসহ নানা ব্যবস্থা নিয়েছে এবং শুক্রবার এ বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যেন কোনো শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়। সে লক্ষ্যেই প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে।
এদিকে প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দিল্লি হাইকোর্ট একটি বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। মোদী জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বিষয়টি দ্রুত পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হবে।
নতুন এই আদালতে **‘পাবলিক পরীক্ষা (অসদুপায় রোধ) আইন’**-এর আওতায় দায়ের হওয়া সব মামলার বিচার হবে। আইন অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ফাঁস বা নকলের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায়ের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা অনু গ্রোভার বালিগাকে রাউস অ্যাভিনিউ আদালত কমপ্লেক্সে বিশেষ সিবিআই বিচারক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে ঘিরে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়েও বড় ধরনের রদবদল এনেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশীকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। নতুন উচ্চশিক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নরেশ কুমার গাংওয়ার এবং স্কুল শিক্ষা বিভাগের সচিব হয়েছেন টি. কে. অনিল কুমার।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার আন্দোলনকারী **ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)**-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সংগঠনটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ও সরকারি চাকরির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছে।
এই আন্দোলন ইতোমধ্যে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনের সমর্থনে অনশন শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বুধবার রাতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার যন্তর মন্তর এলাকায় মধ্যরাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনের আশপাশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারার অধীনে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যা জনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশের ১৪৪ ধারার অনুরূপ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।
সানা/আপ্র/২৪/৭/২০২৬