অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার জবাবে ১২ ব্রিটিশ নাগরিকের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তেল আবিব। তালিকায় থাকা ১২ জনের মধ্যে ১১ জন ব্রিটিশ সংসদ সদস্য; অপরজন ফাহাদ আনসারি, যিনি ফিলিস্তিনপন্থী একটি সংগঠনের পরিচালক।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার এ পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, যুক্তরাজ্যের বৈরী পদক্ষেপের জবাব দেওয়া ছাড়া ইসরায়েলের আর কোনো উপায় ছিল না।
এর আগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পার্লামেন্টে বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে এবং ইসরায়েল সরকার তা দেখেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন তিনি। মিলিব্যান্ড বলেন, ব্রিটিশ জনগণ চায় না দেশটির দোকান ও বিপণিকেন্দ্রে বসতি এলাকার পণ্য বিক্রির মাধ্যমে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে সমর্থন করা হোক।
গিডিওন সার মিলিব্যান্ডের বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর মিথ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ব্রিটিশ সরকারের পদক্ষেপকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলেও অভিযোগ করেন। তাঁর ঘোষিত তালিকায় রয়েছেন জেরেমি করবিন, জারা সুলতানা, নাজ শাহ, ডায়ান অ্যাবট, হান্নাহ স্পেনসার, কার্লা ডেনিয়ার, সিয়ান বেরি, এলি চাওনস, জন ম্যাকডোনেল, রিচার্ড বারগন ও অ্যাড্রিয়ান রামসে। তালিকায় থাকা ফাহাদ আনসারি ব্রিটিশ সংসদ সদস্য নন।
প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া, কিরিয়াত গাতের আন্তর্জাতিক গাজা সহায়তা কেন্দ্র থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়া এবং গাজা-সংক্রান্ত সমন্বয় কার্যক্রম থেকে যুক্তরাজ্যকে বাদ দেওয়া।
এ ছাড়া রামাল্লায় ব্রিটিশ দলের মাধ্যমে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রমও বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গিডিওন সার দাবি করেন, ২০২৪ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলের প্রতি বৈরী মনোভাব দেখিয়ে আসছে। তিনি বলেন, যেসব সরকার মনে করে ইসরায়েলকে তার জাতীয় ও নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করা সম্ভব, তাদের সে প্রচেষ্টা সফল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পরপরই আসে। ফ্রান্স ও কানাডাও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হওয়া কূটনৈতিক উত্তেজনা আরো বেড়েছে।
সানা/আপ্র/১০/৯/২০২৬