ভোরের কুয়াশা ভেদ করে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের আকাশে দেখা মিলল বিশাল এক ড্রাগনের। রূপকথার কোনো প্রাণী নয়, তবে প্রথম দেখায় অনেকেই চমকে উঠেছিলেন। নদীর ওপর শান্ত ভঙ্গিতে উড়ে বেড়ানো ডানাওয়ালা এই ‘ড্রাগন’ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
ঘটনাটি ঘটে ভোরের দিকে। রিভার ক্লাইডের তীর ধরে ওভো হাইড্রোর পাশ দিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন এসটিভি রেডিওর উপস্থাপক ইউয়েন ক্যামেরন। হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি দেখতে পান, বিশাল আকৃতির একটি ড্রাগন ভেসে বেড়াচ্ছে।
প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ক্যামেরন। আবার ভালো করে দেখার পর নিশ্চিত হন, সত্যিই আকাশে উড়ছে একটি ড্রাগনের মতো দেখতে বস্তু। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করেন এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনলাইনে শুরু হয় নানা আলোচনা। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেন, কেউ আবার রসিকতা করে বলেন, বুঝি রূপকথার ড্রাগন বাস্তব দুনিয়ায় হাজির হয়েছে।
তবে কয়েক দিনের মধ্যেই জানা যায় আসল ঘটনা। এটি কোনো পৌরাণিক প্রাণী নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির এক অসাধারণ উদাহরণ।
আকাশে উড়তে দেখা ড্রাগনটি জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’-এর ড্রাগন চরিত্র ‘সাইর্যাক্স’-এর একটি বাস্তব মডেল। জার্মানির বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারস্টেজ’ এটি তৈরি করেছে।
প্রায় ১৩ কেজি ওজনের এই যান্ত্রিক ড্রাগনটি তৈরি করা হয়েছে কার্বন ফাইবার, ফোম ও ক্ষুদ্র ইঞ্জিনের সমন্বয়ে। এটি রিমোট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ড্রাগনটির ডানা, লেজ ও অন্যান্য অংশও নড়াচড়া করতে পারে।
এর চালক ডেনিস গুটোওস্কি জানান, ২৩টি সচল যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে তৈরি এই ড্রাগনের রাডার, প্রোপেলার, লেজ ও ডানাগুলো বাস্তবের মতো কাজ করে। তাঁর মতে, সাধারণ রিমোট নিয়ন্ত্রিত উড়োজাহাজ পরিচালনার তুলনায় ড্রাগন ওড়ানো সম্পূর্ণ ভিন্ন ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
এর আগে লন্ডনের আকাশেও প্রচারণার অংশ হিসেবে উড়ানো হয়েছিল এই যান্ত্রিক ড্রাগন। দীর্ঘ গবেষণা ও নিখুঁত কারিগরি দক্ষতায় তৈরি এই কৃত্রিম ‘সাইর্যাক্স’ এবার গ্লাসগোর বাসিন্দাদের উপহার দিয়েছে এক ভিন্নধর্মী বিস্ময়।
সানা/আপ্র/২৪/৭/২০২৬