এস এ খান শিল্টু, মেহেরপুর: মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট রাফসান জনি রিপনসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতার অন্যরা হলেন— মো. ফাহাদ হাসান জুনায়েদ, মো. বায়েজিদ ডালিম ও মো. রকিবুল ইসলাম।
গত শুক্রবার (১৪ মে) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে মেহেরপুর সদর ও গাংনী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার চাঁদবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে বায়েজিদ ডালিমকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। ফোন তল্লাশি করে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এবং অবৈধ ডলার কেনাবেচার তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ই-মেইল ঠিকানার তথ্যও উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুজিবনগরের পুরন্দরপুর গ্রাম থেকে রকিবুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। ফোন দুটি পর্যালোচনা করে অনলাইন জুয়ার জন্য অবৈধ ডলার লেনদেন ও জুয়ার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে ডিবি পুলিশের আরেকটি দল গাড়াডোব এলাকা থেকে রাফসান জনি রিপনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে ফোনে ৩৭টি মেইল আইডি ও ২৯টি অনলাইন জুয়ার অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমঝুপি এলাকা থেকে ফাহাদ হাসান জুনায়েদকে গ্রেফতার করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও সাতটি ই-মেইল আইডিসহ অনলাইন জুয়ার মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছে, তারা নিজেদের ও অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনা, জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ এবং অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের সঙ্গে জড়িত ছিল। পুলিশের ভাষ্য, এ ধরনের কার্যক্রমে গ্রামের বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষ স্বল্প পরিশ্রমে অধিক লাভের আশায় সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। অনেকেই হতাশা, মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মেহেরপুর সদর ও গাংনী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর আওতায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সানা/আপ্র/১৭/৫/২০২৬